জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো ছাড়া কোনো উপায় ছিল না বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) চেয়ারম্যান মো. রফিকুল ইসলাম। তাঁর দাবি, প্রতি লিটার ডিজেল বিক্রি করতে গিয়ে সংস্থাটিকে এখন ৯০ টাকা করে লোকসান গুনতে হচ্ছে। আজ সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সংবাদমাধ্যমকে তিনি এ কথা বলেন।
বিপিসিপ্রধানের ভাষ্য, আগের দামে তেল বিক্রি চালিয়ে গেলে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ক্ষতি আরও বাড়ত। এ কারণেই দাম সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। সম্প্রতি সরকার জ্বালানি তেলের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়িয়েছে।
দাম বাড়ার প্রভাব ইতিমধ্যে বাজারে দেখা যাচ্ছে বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। প্রায় সব ব্র্যান্ডের তরল দুধের দাম লিটারে ১০ টাকা বেড়েছে। তবে জ্বালানির দাম বৃদ্ধির সঙ্গে এর সরাসরি সম্পর্ক আছে কি না, তা নিশ্চিত করা হয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, ডিজেল দেশের পরিবহন, কৃষি ও শিল্প খাতের প্রধান জ্বালানি। তাই এর দাম বাড়লে পণ্য পরিবহনের খরচ বাড়ে। ফলে নিত্যপণ্যের বাজারেও চাপ তৈরি হতে পারে।
বিপিসির হিসাবে লিটারপ্রতি লোকসান ৯০ টাকা হলেও দাম বেড়েছে ২০ টাকা। ফলে এই বৃদ্ধির পরও ঘাটতির একটি অংশ থেকে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে ৯০ টাকার হিসাব দাম বাড়ানোর আগের নাকি পরের, তা প্রতিবেদনে স্পষ্ট নয়।
বিপিসির লোকসান শেষ পর্যন্ত সরকারি কোষাগারের ওপর চাপ ফেলে। দাম না বাড়ালে ভর্তুকি বা ঋণের বোঝা বাড়ত। আবার দাম বাড়ালে সাধারণ ভোক্তা ও ব্যবসায়ীদের খরচ বাড়ে। এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য রাখাই এখন সরকারের বড় চ্যালেঞ্জ।
আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম এবং ডলারের বিনিময় হারের ওপর বিপিসির লোকসানের পরিমাণ অনেকটা নির্ভর করে। এই দুই ক্ষেত্রে পরিস্থিতি কেমন থাকে, তার ওপর ভবিষ্যতে আবার দাম সমন্বয়ের প্রয়োজন হবে কি না, তা নির্ভর করবে।

