বাংলাদেশে মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেট ব্যবহারের প্রবণতা আবারও বাড়ছে। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের আগস্ট মাসে দেশে মোবাইল ফোন সংযোগের সংখ্যা বেড়েছে ৬ লাখ ৫০ হাজার।
বিটিআরসির তথ্য বলছে, জুলাই মাসে দেশে মোট মোবাইল সংযোগের সংখ্যা ছিল ১৯ কোটি ৪ লাখ ৪০ হাজার। আগস্ট শেষে এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৯ কোটি ১০ লাখ ৯০ হাজারে।
দেশের সব মোবাইল অপারেটরই আগস্ট মাসে নতুন গ্রাহক যুক্ত করতে সক্ষম হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বৃদ্ধি দেখা গেছে গ্রামীণফোনে।
গ্রামীণফোনের গ্রাহক সংখ্যা জুলাইয়ের ৮ কোটি ৭০ লাখ ১০ হাজার থেকে বেড়ে আগস্টে হয়েছে ৮ কোটি ৭২ লাখ।
রবি আজিয়াটার গ্রাহক সংখ্যা একই সময়ে ৫ কোটি ৮৭ লাখ ৭০ হাজার থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ কোটি ৯০ লাখ ৪ হাজারে।
বাংলালিংকের গ্রাহক সংখ্যা জুলাইয়ের ৩ কোটি ৭৮ লাখ ৪০ হাজার থেকে বেড়ে আগস্টে হয়েছে ৩ কোটি ৭৯ লাখ ৫০ হাজার।
রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন মোবাইল অপারেটর টেলিটকের গ্রাহক সংখ্যাও কিছুটা বেড়েছে। জুলাই মাসে টেলিটকের সংযোগ ছিল ৬৮ লাখ ২০ হাজার, যা আগস্টে বেড়ে হয়েছে ৬৯ লাখ।
চলতি বছরের শুরু থেকে দেশের মোবাইল সংযোগের সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। জানুয়ারি মাসে দেশে মোট মোবাইল সংযোগ ছিল ১৮ কোটি ৫৮ লাখ। আগস্ট শেষে তা বেড়ে হয়েছে ১৯ কোটি ১০ লাখ ৯০ হাজার।
অর্থাৎ ২০২৬ সালের প্রথম আট মাসে দেশে নতুন মোবাইল সংযোগ যুক্ত হয়েছে প্রায় ৫২ লাখ ৯০ হাজার।
একই সঙ্গে গত বছরের তুলনায়ও মোবাইল সংযোগ বেড়েছে। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে দেশে মোবাইল সংযোগের সংখ্যা ছিল ১৮ কোটি ৭৯ লাখ ৭০ হাজার। এক বছরের ব্যবধানে এই সংখ্যা বেড়েছে ৩১ লাখ ২০ হাজার।
মোবাইল বাজারে এখনো সবচেয়ে বড় অংশ ধরে রেখেছে গ্রামীণফোন। আগস্ট মাসে দেশের মোট মোবাইল সংযোগের প্রায় ৪৫ দশমিক ৬ শতাংশ গ্রাহক রয়েছে এই অপারেটরের।
দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা রবি আজিয়াটার বাজার অংশ প্রায় ৩০ দশমিক ৯ শতাংশ। বাংলালিংকের অংশ প্রায় ১৯ দশমিক ৯ শতাংশ এবং টেলিটকের অংশ প্রায় ৩ দশমিক ৬ শতাংশ।
মোবাইল সংযোগ বৃদ্ধির পাশাপাশি দেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যাও বেড়েছে। বিটিআরসির তথ্য অনুযায়ী, জুলাই মাসে দেশে মোট ইন্টারনেট গ্রাহক ছিল ১৩ কোটি ৬৭ লাখ ৫০ হাজার। আগস্ট শেষে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩ কোটি ৭৬ লাখ ৬০ হাজারে।
অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে দেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারী বেড়েছে প্রায় ৯ লাখ ১০ হাজার।
এর মধ্যে মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। জুলাইয়ে মোবাইল ইন্টারনেট গ্রাহক ছিল ১২ কোটি ১৫ লাখ ২০ হাজার, যা আগস্টে বেড়ে হয়েছে ১২ কোটি ২২ লাখ ৬০ হাজার।
অন্যদিকে ইন্টারনেট সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান এবং পাবলিক সুইচড টেলিফোন নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যাও বেড়েছে। জুলাইয়ের ১ কোটি ৫২ লাখ ৩০ হাজার থেকে আগস্টে এই সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১ কোটি ৫৪ লাখ।
বিশ্লেষকদের মতে, মোবাইল ও ইন্টারনেট ব্যবহার বৃদ্ধির এই ধারা দেশের ডিজিটাল অর্থনীতির সম্প্রসারণের গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দিচ্ছে। বর্তমানে মোবাইল ফোন শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়, বরং আর্থিক লেনদেন, অনলাইন ব্যবসা, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং বিভিন্ন সরকারি সেবা গ্রহণের অন্যতম মাধ্যম হয়ে উঠেছে।
বিশেষ করে মোবাইল ইন্টারনেটের বিস্তার মানুষের দৈনন্দিন জীবনে ডিজিটাল সেবার ব্যবহার আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। তবে ব্যবহারকারী বৃদ্ধির পাশাপাশি উন্নত নেটওয়ার্ক মান, সাশ্রয়ী ইন্টারনেট সুবিধা এবং তথ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
আগস্ট মাসের সর্বশেষ তথ্য দেশের টেলিযোগাযোগ খাতে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধির ইঙ্গিত দিচ্ছে। মোবাইল সংযোগ ও ইন্টারনেট ব্যবহারকারী উভয় ক্ষেত্রেই বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে দেশের ডিজিটাল রূপান্তরের গতিও আরও শক্তিশালী হতে পারে।

