লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলায় একটি নতুন নির্মিত সেতুর সংযোগ সড়ক ধসে যাওয়ায় প্রায় ৩০ হাজার মানুষ দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। সড়কটি ভেঙে যাওয়ায় চারটি গ্রামের মানুষের স্বাভাবিক যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, রামগতির চরাঞ্চলের মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি গত ৯ সেপ্টেম্বর টানা বৃষ্টি ও মেঘনা নদীর প্রবল জোয়ারের স্রোতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। উপজেলার চরগাজী ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের রহমতপুর এলাকায় বয়াচর সড়কের ওপর নির্মিত সেতুর দুই পাশের সংযোগ সড়ক ধসে পড়ে।
সেতুটি ২০২৫ সালে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) মাধ্যমে নির্মাণ করা হয়েছিল। কিন্তু সেতু চালু হওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই এর সংযোগ সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় রামগতি-বয়াচর সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।
এর ফলে মোল্লাগ্রাম, সেন্টাল বাজার, তেগাছিয়া বাজারসহ আশপাশের এলাকার মানুষ সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, চরাঞ্চল থেকে কৃষিপণ্য, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য এবং অন্যান্য সামগ্রী পরিবহনের জন্য এই সড়কটি গুরুত্বপূর্ণ। ট্রাক, ভ্যান, অটোরিকশা এবং সিএনজিচালিত যানবাহন নিয়মিত চলাচল করত এই পথে।
সড়ক ভেঙে যাওয়ায় শিক্ষার্থী, মসজিদে যাতায়াতকারী মানুষ এবং স্কুল-মাদ্রাসাগামীদেরও দুর্ভোগ বেড়েছে। জরুরি প্রয়োজনে উপজেলা সদরে যাতায়াত করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আক্কাস আলী ও দুলাল মিয়া জানান, সড়ক ধসের পর ১৬ দিন পার হলেও এখনো কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসন ও এলজিইডি কার্যালয়কে জানানো হলেও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি বলে অভিযোগ করেন তারা।
চরগাজী ইউনিয়ন পরিষদের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য শেখ ফরিদ বলেন, চরাঞ্চলের সঙ্গে উপজেলার অন্যান্য এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। দ্রুত সড়কটি সংস্কার না করলে মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়বে।
তিনি বলেন, স্থানীয়রা একাধিকবার উপজেলা এলজিইডি কার্যালয় ও প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ দেখা যায়নি।
রামগতি উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী স্নেহল রায় জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনের জন্য কর্মকর্তাদের পাঠানো হবে এবং পরিস্থিতি বিবেচনা করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রামগতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ এহসান উদ্দিন বলেন, জনদুর্ভোগ বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট বিভাগকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে বলা হবে।
স্থানীয়দের দাবি, সাময়িক মেরামতের পাশাপাশি ভবিষ্যতে যাতে বৃষ্টি ও নদীর জোয়ারে আবারও সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে জন্য টেকসই ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। দীর্ঘদিন যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকলে চরাঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রা, কৃষিপণ্য পরিবহন এবং শিক্ষা কার্যক্রম আরও বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

