মহেশখালীর মাতারবাড়ীকে ঘিরে নেওয়া বড় উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর কাজ দ্রুত এগিয়ে নিতে উচ্চপর্যায়ের একটি সমন্বয় কমিটি গঠন করেছে সরকার। ভূমি অধিগ্রহণ, ক্ষতিপূরণ, পুনর্বাসন এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের জটিলতা দূর করে ২০২৯ সালের মধ্যে অগ্রাধিকার প্রকল্পগুলো শেষ করার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মহেশখালী সমন্বিত উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (মিডা) আওতাধীন নয়টি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প বাস্তবায়নে গতি আনতে এই কমিটি কাজ করবে।
মাতারবাড়ী ও মহেশখালী এলাকায় জ্বালানি, বন্দর, আবাসন, লজিস্টিকস এবং অর্থনৈতিক অঞ্চল উন্নয়নের জন্য সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়েছে। এসব কার্যক্রম সমন্বয়ের জন্য ২০২৫ সালের ১ আগস্ট কার্যকর হওয়া একটি অধ্যাদেশের মাধ্যমে মিডা গঠন করা হয়।
মিডা বর্তমানে মহেশখালী এলাকায় একটি সমন্বিত প্রশাসনিক কাঠামো হিসেবে কাজ করছে। এর আওতায় রয়েছে জ্বালানি প্রকল্প, বন্দর সম্প্রসারণ, টাউনশিপ উন্নয়ন এবং সাতটি অর্থনৈতিক অঞ্চল।
মহেশখালী এলাকায় ইতোমধ্যে ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং এলএনজি টার্মিনাল রয়েছে। নতুন পরিকল্পনার মাধ্যমে এই অঞ্চলকে দেশের অন্যতম বড় শিল্প ও জ্বালানি কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ১৪ সেপ্টেম্বর এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে নতুন সমন্বয় কমিটি গঠন করেছে। কমিটির সভাপতি করা হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিবকে।
কমিটিতে ভূমি, অর্থ, পরিকল্পনা, নৌপরিবহন এবং বিদ্যুৎ বিভাগের সচিবরা সদস্য হিসেবে থাকবেন।
নতুন কমিটির মূল দায়িত্ব হবে প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় সময়সীমা নির্ধারণ করা এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার মধ্যে সমন্বয় তৈরি করা।
এ ছাড়া প্রকল্পের জন্য জমি অধিগ্রহণ, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের ক্ষতিপূরণ প্রদান, বাস্তুচ্যুত মানুষের পুনর্বাসন এবং স্থানীয় মানুষের দক্ষতা ও জীবিকা পুনরুদ্ধারের বিষয়গুলো ত্বরান্বিত করা হবে।
অগ্রাধিকার প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ। এর মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ এবং সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট অংশ রয়েছে।
এ ছাড়া রয়েছে ভূমিভিত্তিক এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণ, ভূমিভিত্তিক এলপিজি টার্মিনাল ও সংরক্ষণ সুবিধা তৈরি এবং তৃতীয় ভাসমান এলএনজি সংরক্ষণ ও পুনঃগ্যাসীকরণ ইউনিট স্থাপন।
জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের আরও কয়েকটি বড় প্রকল্পও এই তালিকায় রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ কয়লা বিদ্যুৎ উৎপাদন কোম্পানি লিমিটেডের তৃতীয় ও চতুর্থ কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র।
এ ছাড়া একটি তেল শোধনাগার ও পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্স, ডকইয়ার্ড বা জাহাজ নির্মাণ প্রকল্প এবং মাতারবাড়ী সমন্বিত উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের কার্যালয় স্থাপনও অগ্রাধিকার তালিকায় রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মাতারবাড়ী শুধু একটি বন্দর প্রকল্প নয়, বরং এটি ভবিষ্যতে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা, শিল্পায়ন, আঞ্চলিক বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ সম্প্রসারণের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে।
তবে এসব বড় প্রকল্প সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য সময়মতো জমি অধিগ্রহণ, অবকাঠামো উন্নয়ন, পরিবেশগত ব্যবস্থাপনা এবং বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ হবে।

