সংবিধানের রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিতে ‘মহান আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস’ পুনরায় যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও সংবিধান সংশোধন-সংক্রান্ত বিশেষ কমিটির আহ্বায়ক সালাউদ্দিন আহমদ।
রোববার সন্ধ্যায় জাতীয় সংসদের গণমাধ্যম কেন্দ্রে সংবিধান সংশোধন কমিটির তৃতীয় বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ তথ্য জানান। মন্ত্রী বলেন, সরকারের অগ্রাধিকার জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন। পাশাপাশি নির্বাচনি ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলোও বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এর অংশ হিসেবেই সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৮-এ ‘মহান আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস’ ফিরিয়ে আনার কথা জানান তিনি।
সালাউদ্দিন আহমদ বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি হিসেবে বিষয়টি সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৮-এ যুক্ত করেছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। এটি বর্তমান সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারের একটি প্রতিশ্রুতি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
গণভোটের বিষয়ে তিনি জানান, ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর সুপ্রিম কোর্টের রায়ে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী বাতিল হওয়ায় ১৪২ অনুচ্ছেদ কার্যকর অবস্থায় ফিরে এসেছে। ফলে সংবিধানের প্রস্তাবনা, ৮, ৪৮, ৫৬ ও ১৪২ অনুচ্ছেদে পরিবর্তন আনা হলে রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের আগে গণভোটের প্রয়োজন হতে পারে।
তিনি বলেন, সংবিধান সংশোধনের বিল সংসদে পাস হওয়ার পর এ বিষয়ে গণভোট আয়োজন করা হবে।
এদিকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা আরও সুরক্ষিত করার বিষয়েও একটি প্রস্তাব এসেছে বলে জানান কমিটির আহ্বায়ক। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বিএনপির পক্ষ থেকে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে—ভবিষ্যতে কোনো সংসদ যেন সহজে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করতে না পারে। এ ব্যবস্থা সংক্রান্ত সাংবিধানিক বিধানে পরিবর্তন আনতেও গণভোট বাধ্যতামূলক করার বিধান রাখার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
সংবিধান সংশোধনের সময়সূচি সম্পর্কে সালাউদ্দিন আহমদ বলেন, ডিসেম্বরের মধ্যেই সংশোধন-সংক্রান্ত কমিটির প্রতিবেদন সংসদে উপস্থাপনের চেষ্টা চলছে। এরপর ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আইন মন্ত্রণালয় থেকে একটি সংশোধনী বিল তৈরি করা হবে।
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী বছরের জানুয়ারিতে সংসদের বছরের প্রথম অধিবেশনে বিলটি উত্থাপন হতে পারে। সংসদে আলোচনা ও প্রয়োজনীয় সংশোধন শেষে বিলটি পাস হলে পরবর্তী ধাপে গণভোটের মাধ্যমে এর চূড়ান্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।

