ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির উপকারভোগীদের ভাতা নিয়মিত ও সময়মতো পৌঁছে দিতে কড়া নির্দেশনা দিয়েছে সমাজসেবা অধিদপ্তর। প্রতি মাসের ২০ থেকে ২৫ তারিখের মধ্যে শতভাগ নির্ভুল পে-রোল পাঠাতে বলা হয়েছে সংশ্লিষ্ট কার্যালয়গুলোকে।
গত ২৭ সেপ্টেম্বর অধিদপ্তরের ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি শাখা থেকে জারি করা এক চিঠিতে এই নির্দেশ দেওয়া হয়। চিঠিতে বলা হয়েছে, কর্মসূচির আওতায় ভাতাভোগীদের নিজ নিজ মোবাইল আর্থিক সেবা (এমএফএস) হিসাব, টাকাপে ও ব্যাংক হিসাবে জিটুপি পদ্ধতিতে সরাসরি অর্থ পাঠানো হচ্ছে। এই ব্যবস্থায় মাঝখানে কোনো মধ্যস্বত্বভোগী থাকে না। তাই হিসাব নম্বর বা তথ্যে সামান্য ভুল থাকলেই অর্থ আটকে যেতে পারে।
সঠিক ও প্রকৃত উপকারভোগীর কাছে সময়মতো টাকা পৌঁছানোর লক্ষ্যে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে প্রতি মাসের কিস্তির জন্য নির্ভুল পে-রোল পাঠানো বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এই দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট উপজেলা ও শহর সমাজসেবা কর্মকর্তাদের।
নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, প্রতি মাসের ২০–২৫ তারিখের মধ্যে পে-রোল পাঠানোর আগে উপকারভোগীদের মোবাইল নম্বর ও ব্যাংক হিসাব নম্বরসহ প্রয়োজনীয় সব তথ্য যাচাই ও সংশোধন করতে হবে। এরপর তা ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমে (এমআইএস) হালনাগাদ করতে হবে।
কোনো উপকারভোগীর মৃত্যু হলে কিংবা অন্য কোনো কারণে তাঁকে বাদ দিয়ে নতুন কাউকে অন্তর্ভুক্ত করার প্রয়োজন হলে বিদ্যমান নীতিমালা মানতে হবে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কমিটির মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নিয়ে তা বাস্তবায়ন করতে বলা হয়েছে। ফলে কর্মকর্তারা নিজ ইচ্ছায় তালিকায় পরিবর্তন আনতে পারবেন না।
সমাজসেবা অধিদপ্তরের পরিচালক (সামাজিক নিরাপত্তা) মো. মোশাররফ হোসেন চিঠিটিতে স্বাক্ষর করেছেন। এটি ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, সিলেট, রংপুর, বরিশাল ও ময়মনসিংহ বিভাগের বিভাগীয় সমাজসেবা কার্যালয়ের পরিচালকদের কাছে পাঠানো হয়েছে। তাঁদের মাধ্যমে নির্দেশনা উপজেলা ও শহর পর্যায়ের কার্যালয়ে পৌঁছাবে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, নির্ধারিত সময়সীমা মেনে নির্ভুল তথ্য পাঠাতে পারলে ভাতা বিতরণে বিলম্ব ও অনিয়মের সুযোগ কমবে। এতে প্রকৃত উপকারভোগীরা প্রতি মাসে নিয়মিত অর্থ পাবেন।

