দেশের গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আগামী অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে মোট ১৯টি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) কার্গো আমদানি নিশ্চিত করেছে পেট্রোবাংলা। এর মধ্যে অক্টোবরে ১০টি এবং নভেম্বরে ৯টি কার্গো দেশে পৌঁছাবে।
পেট্রোবাংলা ও রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডের (আরপিজিসিএল) তথ্য অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ে এসব এলএনজি দেশে আসবে এবং পুনঃগ্যাসীকরণের পর জাতীয় গ্যাস গ্রিডে সরবরাহ করা হবে।
পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান মো. আব্দুল মান্নান জানিয়েছেন, অক্টোবর ও নভেম্বর মাসের জন্য এলএনজি কার্গো নিয়ে কোনো জটিলতা নেই। চাহিদা বিবেচনায় মোট ১৯টি কার্গো নিশ্চিত করা হয়েছে।
তিনি বলেন, নিয়মিতভাবে পরবর্তী কয়েক মাসের প্রয়োজনীয় এলএনজি সরবরাহ নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে, যাতে এলএনজি থেকে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহে কোনো ঘাটতি তৈরি না হয়।
পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবরে আসা ১০টি কার্গোর মধ্যে তিনটি আসবে খোলাবাজার থেকে। দুটি আসবে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় এবং পাঁচটি আসবে স্বল্পমেয়াদি চুক্তির মাধ্যমে।
অন্যদিকে নভেম্বরে আসবে নয়টি এলএনজি কার্গো। এর মধ্যে ছয়টি দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় এবং তিনটি স্বল্পমেয়াদি চুক্তির আওতায় আনা হবে।
এসব এলএনজি যুক্তরাষ্ট্র, নাইজেরিয়া, অ্যাঙ্গোলা ও অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশ থেকে কেনা হয়েছে।
আরপিজিসিএলের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিটি এলএনজি কার্গোতে প্রায় ৩২ লাখ মিলিয়ন ব্রিটিশ থার্মাল ইউনিট এলএনজি থাকে। সে হিসাবে অক্টোবর ও নভেম্বরের ১৯টি কার্গোতে মোট প্রায় ৬ কোটি ৮ লাখ মিলিয়ন ব্রিটিশ থার্মাল ইউনিট এলএনজি আমদানি হবে।
আমদানি করা এলএনজি প্রথমে সমুদ্রপথে দেশের এলএনজি টার্মিনালে পৌঁছায়। সেখানে বিশেষ প্রক্রিয়ায় এলএনজিকে আবার গ্যাসে রূপান্তর করা হয়। এরপর পাইপলাইনের মাধ্যমে জাতীয় গ্যাস গ্রিডে সরবরাহ করা হয়।
এলএনজি আমদানির পুরো প্রক্রিয়া পেট্রোবাংলার তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়। অন্যদিকে এলএনজি কার্গো সংগ্রহ, সময়সূচি নির্ধারণ, চুক্তি সম্পাদন এবং টার্মিনাল পরিচালনার দায়িত্ব পালন করে আরপিজিসিএল।
পেট্রোবাংলার পরিচালক (অর্থ) মিজানুর রহমান জানান, নিশ্চিত হওয়া কার্গোগুলোর মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি ও স্বল্পমেয়াদি চুক্তির এলএনজি রয়েছে। পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী খোলাবাজার থেকেও এলএনজি কেনা হচ্ছে।
তিনি বলেন, চাহিদা অনুযায়ী আমদানি নিশ্চিত হওয়ায় আগামী কয়েক মাস এলএনজি সরবরাহে বড় ধরনের সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা নেই।
বাংলাদেশ বর্তমানে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় কাতার ও ওমান থেকে এলএনজি সংগ্রহ করে। কাতার এনার্জি এবং ওমান সরকারের জ্বালানি ও পণ্য বাণিজ্য প্রতিষ্ঠান ওকিউ ট্রেডিং দেশের অন্যতম সরবরাহকারী।
এ ছাড়া ওকিউ ট্রেডিংয়ের সঙ্গে স্বল্পমেয়াদি চুক্তির মাধ্যমেও এলএনজি আনা হচ্ছে। প্রয়োজন অনুযায়ী খোলাবাজার থেকেও সরবরাহ নিশ্চিত করছে বাংলাদেশ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের গ্যাস চাহিদা পূরণে এলএনজি আমদানি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তবে দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদন বৃদ্ধির ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে।

