বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন পরিকল্পনা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. বাবুল মিঞা। প্রেষণে এই নিয়োগ দিয়ে তাঁর চাকরি শিল্প মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে। বুধবার ৩০ সেপ্টেম্বর রাতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। সার, রাসায়নিক ও সংশ্লিষ্ট শিল্পপ্রতিষ্ঠান পরিচালনার দায়িত্বে থাকা রাষ্ট্রীয় সংস্থাটির শীর্ষ পদে এই রদবদল প্রশাসনিক পর্যায়ে নজর কাড়তে পারে।
বাবুল মিঞা প্রশাসন ক্যাডার কর্মকর্তাদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব। অর্থাৎ তিনি শুধু একজন জ্যেষ্ঠ আমলা নন, ক্যাডার কর্মকর্তাদের একটি প্রভাবশালী সংগঠনের নেতৃত্বেও রয়েছেন। প্রজ্ঞাপনে সংগঠনের এই দায়িত্ব নিয়ে কোনো উল্লেখ নেই, ফলে নতুন পদে যাওয়ার পর সংগঠনের পদে তিনি থাকবেন কি না, সে বিষয়ে এখনো কিছু জানা যায়নি।
একই প্রজ্ঞাপনে আরও কয়েকটি পদায়ন ও নিয়োগের আদেশ হয়েছে। কৃষি মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত অতিরিক্ত সচিব ড. মো. মাহমুদুর রহমানকে অতিরিক্ত সচিব হিসেবে পরিকল্পনা কমিশনে কাজ করার জন্য পরিকল্পনা বিভাগে পদায়ন করা হয়েছে। এর ফলে বাবুল মিঞা পরিকল্পনা বিভাগ ছাড়ার পর সেখানে একজন অতিরিক্ত সচিবের পদায়ন ঘটল, যদিও প্রজ্ঞাপনে দুটি আদেশের মধ্যে সরাসরি সংযোগের কথা বলা হয়নি।
অন্য আদেশে মেজর মো. তারেক হাসান মাসুদকে বাংলাদেশ ই-পাসপোর্ট ও স্বয়ংক্রিয় বর্ডার নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাপনা প্রবর্তন প্রকল্পের সহকারী প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এ জন্য তাঁর চাকরি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে। অন্যদিকে এই প্রকল্পের সহকারী প্রকল্প পরিচালক মেজর মো. নাঈম মোর্শেদ রুম্মানকে সেনাবাহিনীতে ফিরিয়ে নিতে তাঁর চাকরি সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে ন্যস্ত করা হয়েছে। এটি প্রকল্পে দায়িত্বে থাকা সামরিক কর্মকর্তার স্বাভাবিক পালাবদল বলেই মনে হয়, তবে বদলির কারণ প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ নেই।
বিসিআইসির মতো বড় রাষ্ট্রীয় সংস্থার নেতৃত্বে পরিবর্তন সাধারণত সংস্থার নীতি, সার উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনা এবং কারখানা পরিচালনার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। তবে নতুন চেয়ারম্যানের অগ্রাধিকার কী হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। দায়িত্ব গ্রহণের পর তাঁর পদক্ষেপ ও সংস্থার কার্যক্রমেই বোঝা যাবে, এই নিয়োগ প্রতিষ্ঠানটির জন্য কতটা কার্যকর হয়।

