জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছেন, আওয়ামী লীগ ও বিএনপি—এই দুই দল মিলে দেশকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়েছে। একদিকে আওয়ামী লীগ (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) ভারতের দালালি করেছে, অন্যদিকে বিএনপি মানুষের পকেট কেটে চাঁদাবাজির রাজত্ব কায়েম করেছে। এই নষ্ট রাজনীতি থেকে দেশকে রক্ষা করতে নতুন রাজনৈতিক শক্তিকে এগিয়ে আসতে হবে।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় আয়োজিত বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও সম্মানিত নাগরিকদের সাথে মতবিনিময় সভা ও যোগদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, বৈষম্যবিরোধী গণঅভ্যুত্থানের পর দেশে যে সংস্কারের আশা তৈরি হয়েছিল, নির্বাচন ঘিরে পুনরায় চাঁদাবাজি, দুর্নীতি ও সন্ত্রাস বেড়ে যাওয়ার কারণে তা ব্যাহত হচ্ছে। আগামী স্থানীয় নির্বাচনে যদি পেশিশক্তি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও কালো টাকার খেলা দেখানোর চেষ্টা করা হয়, তবে সাধারণ জনগণকে সঙ্গে নিয়ে পুনরায় ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।
নির্বাচন কমিশন ও সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে এনসিপির এই মুখ্য সমন্বয়ক বলেন, স্থানীয় নির্বাচন আয়োজন নিয়ে সিদ্ধান্তহীনতা দেখা যাচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত এবং সরকারের বক্তব্যের মধ্যে কোনো সমন্বয় নেই। অভিযোগ করে তিনি বলেন, দেশের সার্বিক রাজনৈতিক ও নির্বাচনী সিদ্ধান্ত একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের লন্ডনের শীর্ষ দফতর থেকে নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং বিরোধী দলীয় অঙ্গসংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে সারাদেশে চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, বর্তমানে বিভিন্ন এলাকায় দিনে-রাতে পকেট কাটা, বালি ও মাটি উত্তোলন এবং জোরপূর্বক চাঁদা আদায়ের উৎসব চলছে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদের ত্যাগের কথা স্মরণ করে নাসিরউদ্দিন পাটোয়ারী বলেন, আমাদের ১ হাজার ৪০০ ভাই জীবন দিয়েছেন, হাজার হাজার মানুষ পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন। শহীদদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে আমরা এই নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখছি। পকেটে টাকা না থাকলেও বা পায়ে ছিঁড়ে যাওয়া স্যান্ডেল থাকলেও আমরা আদর্শ বিক্রি করব না এবং কোনো চাঁদাবাজির রাজনীতিতে নাম লেখাব না।
তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনে দেশের ছাত্র-জনতা, শ্রমিক, নারী, আলেম ও সাধারণ মানুষ যে অভূতপূর্ব একতা দেখিয়েছিল, সেই সার্বজনীন শক্তির মাধ্যমে আগামীতে যেকোনো রাজনৈতিক অপশক্তি ও দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়া হবে।
সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন, এনসিপির কেন্দ্রীয় সদস্যসচিব আখতার হোসেন, যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আহসান জুনায়েদ, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা শাখার আহ্বায়ক একরামুল হক, দক্ষিণ জেলা শাখার আহ্বায়ক লায়ন এ. এম. মুন্না চৌধুরী, দক্ষিণ জেলার সদস্য সচিব জুবাইরুল আলম মানিক, জুলাই-গণঅভ্যুত্থান ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক শাহেদুল ইসলামসহ চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা এবং সহযোগী সংগঠন ছাত্রশক্তি, যুবশক্তি, নারীশক্তি ও শ্রমিকশক্তির স্থানীয় নেতা-কর্মীরা।

