অর্থনীতিবিদ ও গবেষক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম গবেষণাপ্রতিষ্ঠান নলেজ হাব ইনস্টিটিউট ট্রাস্টের সভাপতির দায়িত্ব নিয়েছেন। চলতি অক্টোবর মাস থেকে তিনি এ দায়িত্ব পালন করছেন। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়েছে। নীতি গবেষণার ক্ষেত্রে নতুন এই প্রতিষ্ঠানের জন্য একজন অভিজ্ঞ গবেষকের নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, নলেজ হাব ইনস্টিটিউট অর্থনীতি, নীতি গবেষণা ও উন্নয়ন-সংক্রান্ত নানা বিষয়ে গবেষণা এবং নীতিগত সহায়তা দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ শুরু করেছে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির কাজ মূলত চারটি ক্ষেত্রে কেন্দ্রীভূত। এগুলো হলো পরিচ্ছন্ন জ্বালানি, সামষ্টিক অর্থনীতি ও সরকারি আর্থিক ব্যবস্থাপনা, অর্থ ও ব্যাংকিং এবং কর্মসংস্থান ও দক্ষতা উন্নয়ন।
গোলাম মোয়াজ্জেম অর্থনৈতিক গবেষণা, জননীতি ও প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়নে দুই দশকের বেশি সময় ধরে কাজ করছেন। নতুন দায়িত্বে আসার আগে তিনি বেসরকারি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক ছিলেন। দেশের নীতি-আলোচনায় সক্রিয় একটি প্রতিষ্ঠানে এই দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা তাঁর নতুন ভূমিকায় কাজে লাগবে বলে আশা করা যায়।
তাঁর গবেষণার পরিসর বেশ বিস্তৃত। উৎপাদনশীল খাতের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগের উন্নয়ন, শ্রম অধিকার এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি তাঁর কাজের অন্যতম ক্ষেত্র। এর বাইরে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, জলবায়ু পরিবর্তন, জ্বালানি রূপান্তর, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, বেসরকারি বিনিয়োগ ও সামাজিক সুরক্ষার মতো বিষয়েও তিনি কাজ করেছেন।
শিক্ষাজীবনে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন। পরে জাপানের কিয়োটো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এরিয়া স্টাডিজ বিষয়ে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।
প্রতিষ্ঠানটির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নলেজ হাব ইনস্টিটিউট গবেষণা, জ্ঞান ও নীতিগত বিশ্লেষণের মাধ্যমে অর্থনীতি ও উন্নয়নসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কাজ করবে। বিশেষ করে জ্বালানি, সামষ্টিক অর্থনীতি, আর্থিক খাত এবং কর্মসংস্থান ও দক্ষতা উন্নয়নে বেশি জোর দেওয়া হবে।
প্রতিষ্ঠানটির চার কাজের ক্ষেত্র এবং নতুন সভাপতির গবেষণা-অভিজ্ঞতার মধ্যে বেশ মিল দেখা যায়। জ্বালানি রূপান্তর, কর্মসংস্থান, ব্যাংকিং ও সামষ্টিক অর্থনীতি বর্তমানে দেশের নীতি-আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে। এই বিষয়গুলোতে তথ্যনির্ভর ও স্বাধীন বিশ্লেষণের চাহিদা বাড়ছে। ফলে নতুন একটি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান জায়গা করে নেওয়ার সুযোগ পেতে পারে।
তবে সুযোগের পাশাপাশি চ্যালেঞ্জও কম নয়। দেশে ইতিমধ্যে একাধিক প্রতিষ্ঠিত গবেষণাপ্রতিষ্ঠান কাজ করছে। তাই নলেজ হাবকে নিজস্ব পরিচিতি তৈরি করতে হলে গবেষণার মান, স্বচ্ছতা ও নীতিনির্ধারকদের কাছে প্রাসঙ্গিকতা ধরে রাখতে হবে। গবেষণা তহবিলের উৎস ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করাও এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।
এখন দেখার বিষয়, প্রতিষ্ঠানটি কী ধরনের গবেষণা প্রকাশ করে এবং সেগুলো নীতিনির্ধারণে কতটা প্রভাব ফেলতে পারে। নতুন সভাপতির অভিজ্ঞতা সেই পথচলায় প্রতিষ্ঠানটিকে এগিয়ে নিতে সহায়ক হবে বলে আশা করা যায়।

