দেশের চাকরিপ্রার্থী ও নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ তৈরি করতে নতুন উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে সরকার। বেকার জনগোষ্ঠীর জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে এবং শ্রমবাজারের চাহিদা ও দক্ষতার মধ্যে সমন্বয় করতে চালু করা হচ্ছে ‘কর্মসংস্থান বিনিময় কেন্দ্র’।
দেশে বর্তমানে বিপুলসংখ্যক মানুষ চাকরির সন্ধানে থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠান ও যোগ্য প্রার্থীদের মধ্যে কার্যকর যোগাযোগের অভাব রয়েছে। এই সমস্যা সমাধানে একটি শক্তিশালী চাকরির তথ্যভান্ডার বা ডাটাবেজ তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
এই উদ্যোগের আওতায় দেশের বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্যারিয়ার মেলা ও চাকরি মেলার আয়োজন করা হবে। এসব মেলার মাধ্যমে আগ্রহী চাকরিপ্রার্থীদের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করে একটি সমন্বিত ডাটাবেজ তৈরি করা হবে।
একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন শিল্পকারখানা ও উৎপাদন খাতের প্রয়োজনীয় জনবলের তথ্যও সংগ্রহ করা হবে। কোন খাতে কী ধরনের দক্ষ কর্মী প্রয়োজন, কোন ধরনের প্রশিক্ষণ দরকার এবং কোথায় কতজন কর্মীর চাহিদা রয়েছে—এসব তথ্যের ভিত্তিতে অনলাইন ও অফলাইন উভয় ধরনের তথ্যভান্ডার তৈরি করা হবে।
শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী রোববার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, কর্মসংস্থান বিনিময় কেন্দ্র সরাসরি চাকরিপ্রার্থী ও নিয়োগদাতাদের মধ্যে সংযোগ তৈরি করবে।
তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে রাজধানীতে ডিসেম্বর মাসে এই কার্যক্রম শুরু হবে। এরপর ধাপে ধাপে দেশের সব বিভাগ এবং ৬৪ জেলায় এই কেন্দ্র সম্প্রসারণ করা হবে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ও উপদেষ্টা মাহদি আমিন বলেন, কর্মসংস্থান বিনিময় কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা এবং দেশব্যাপী ক্যারিয়ার মেলা আয়োজন সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ।
তিনি বলেন, এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো দেশের জনমিতিক সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে টেকসই কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা। শুধু উচ্চশিক্ষিত তরুণ নয়, প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার বাইরে থাকা মানুষদেরও শ্রমবাজারে প্রবেশের সুযোগ তৈরি করা হবে।
মাহদি আমিন আরও বলেন, বর্তমান সময়ের শিল্পখাতের প্রয়োজন অনুযায়ী দক্ষতার চাহিদা চিহ্নিত করা হবে। এরপর বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অধীন দক্ষতা উন্নয়ন প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালু করা হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের বড় একটি অংশ তরুণ জনগোষ্ঠী। এই জনসংখ্যাকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করা গেলে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখা সম্ভব। তবে এর জন্য শুধু চাকরির সুযোগ তৈরি করলেই হবে না, বরং শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষতা উন্নয়ন এবং সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে চাকরির সংযোগ তৈরি করা জরুরি।
এদিকে শ্রম ও কর্মসংস্থান সচিব মো. আবদুর রহমান তারাফদার সংবাদ সম্মেলনে শ্রম খাতের বিভিন্ন সংস্কার কার্যক্রমের অগ্রগতি তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) আইন ২০২৬, শিশুশ্রম বন্ধে কার্যক্রম, ন্যূনতম মজুরি বোর্ডের কার্যক্রম এবং বাংলাদেশ শ্রম বিধিমালা সংশোধনের উদ্যোগ।
কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শক মো. ফরহাদ সিদ্দিকী, অতিরিক্ত সচিব মো. আবদুর রহিম খান এবং শ্রম অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আবদুস সামাদ আল আজাদসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।
সরকারের এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে চাকরিপ্রার্থীরা এক জায়গা থেকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সুযোগ সম্পর্কে জানতে পারবেন এবং নিয়োগদাতারাও প্রয়োজন অনুযায়ী দক্ষ কর্মী খুঁজে পাওয়ার সুযোগ পাবেন। তবে কর্মসংস্থান বিনিময় কেন্দ্রের সফলতা নির্ভর করবে তথ্যের নির্ভুলতা, নিয়মিত হালনাগাদ এবং শিল্পখাতের সঙ্গে কার্যকর সমন্বয়ের ওপর।

