বাংলাদেশি নাগরিকদের নতুন করে শ্রমিক হিসেবে নিয়োগ, কর্ম অনুমতি অনুমোদন এবং শ্রমিক শ্রেণির প্রবেশ ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ লাওস। দেশটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এই স্থগিতাদেশ ১ সেপ্টেম্বর থেকে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। এ অবস্থায় লাওসে কাজের সুযোগ খোঁজা বাংলাদেশিদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে ভুয়া চাকরির প্রস্তাব বা ভিসার প্রলোভনে পড়ে কাউকে অর্থ না দিতেও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, লাওসের শ্রম ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় গত ৯ সেপ্টেম্বর এ-সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা জারি করে। এতে বাংলাদেশি নাগরিকদের নতুন করে শ্রমিক হিসেবে নিয়োগের ক্ষেত্রে কোটা অনুমোদন, নিয়োগ প্রক্রিয়া এবং কর্ম অনুমতি অনুমোদন সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার কথা বলা হয়েছে। একই নির্দেশনার আওতায় বাংলাদেশিদের জন্য শ্রমিক শ্রেণির ভিসা ইস্যুও বন্ধ রাখা হয়েছে। থাইল্যান্ডে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসও লাওসে বাংলাদেশি কর্মীদের ভিসা ইস্যু স্থগিতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
লক্ষণীয় বিষয় হলো, নির্দেশনাটি জারি হয়েছে ৯ সেপ্টেম্বর, অথচ স্থগিতাদেশ কার্যকর ধরা হয়েছে ১ সেপ্টেম্বর থেকে। অর্থাৎ সিদ্ধান্তটি কার্যকর হয়েছে পূর্বতারিখ থেকে। ফলে ওই সময়ের মধ্যে যাঁরা নতুন করে আবেদন বা প্রক্রিয়া শুরু করেছিলেন, তাঁরা অনিশ্চয়তায় পড়তে পারেন।
মন্ত্রণালয় বিশেষ করে ভুয়া ভিসা, কাল্পনিক চাকরির প্রস্তাব এবং অননুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে প্রতারণার আশঙ্কার কথা উল্লেখ করেছে। কর্মসংস্থান-প্রত্যাশীদের উদ্দেশে বলা হয়েছে, কোনো চাকরির প্রস্তাব বা ভিসার বিষয়ে অর্থ দেওয়ার আগে কিংবা অন্য কোনোভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সূত্র থেকে তথ্য যাচাই করতে হবে। সরকারি অনুমোদন নেই, এমন কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিদেশে কর্মসংস্থানের প্রক্রিয়া সম্পন্ন না করার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।
এই সতর্কবার্তার গুরুত্ব বেশি, কারণ সরকারিভাবে ভিসা বন্ধ থাকলেও কিছু দালাল ও অসাধু প্রতিষ্ঠান সুযোগ নিয়ে বিদেশে চাকরির লোভ দেখাতে পারে। ভিসা স্থগিত থাকা অবস্থায় কেউ যদি লাওসের ভিসা বা কাজের নিশ্চয়তা দিয়ে টাকা চায়, তাহলে সেটিকে প্রতারণার স্পষ্ট ইঙ্গিত হিসেবে ধরা যায়। অনেক সময় সাধারণ মানুষ জমি বা সম্পদ বিক্রি করে, ঋণ করে বিদেশে যাওয়ার জন্য অর্থ দেন। প্রতারণার শিকার হলে তাঁদের আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি মানসিক ধকলও সইতে হয়।
স্থগিতাদেশ ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত কার্যকর থাকার কথা রয়েছে। এর পর কী হবে, তা নির্ভর করছে লাওস সরকারের পরবর্তী সিদ্ধান্ত ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনার ওপর। সেই সময়ে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য শ্রমবাজারের পরিস্থিতি সম্পর্কে নতুন তথ্য জানা যাবে। তত দিন পর্যন্ত লাওসে কর্মসংস্থানের পরিকল্পনা থাকলে মন্ত্রণালয়ের হালনাগাদ নির্দেশনার দিকে নজর রাখা এবং কেবল অনুমোদিত মাধ্যমেই যোগাযোগ করা জরুরি।
বিশ্লেষকদের মতে, কোনো একটি দেশের শ্রমবাজার সাময়িক বন্ধ হলে তা বাংলাদেশের জনশক্তি রপ্তানির ক্ষেত্রে বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারে। তাই একটি বাজারের ওপর নির্ভরতা না রেখে নতুন গন্তব্য খোঁজা, কর্মীদের দক্ষতা বাড়ানো এবং আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে নিরাপদ অভিবাসন নিয়ে সচেতনতা বাড়ানো এবং অনুমোদনহীন রিক্রুটিং কার্যক্রমের বিরুদ্ধে নজরদারি জোরদার করাও জরুরি।

