দিনাজপুরের পার্বতীপুরে অবস্থিত ৫২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার বড়পুকুরিয়া কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে গতকাল মঙ্গলবার ভোরে তৃতীয় ইউনিট বন্ধ হয়ে গেলে পুরো কেন্দ্র অচল হয়ে পড়ে। এর আগে সোমবার ভোরে একই কারণে বন্ধ হয়েছিল প্রথম ইউনিট। ইউনিট দুটি কবে আবার উৎপাদনে ফিরবে, তা এখনো অনিশ্চিত।
কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী মো. আবু বক্কর সিদ্দিক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সোমবার ভোর ৫টা ৫০ মিনিটে প্রথম ইউনিট এবং মঙ্গলবার ভোর ৫টা ৫ মিনিটে তৃতীয় ইউনিট বন্ধ হয়। ত্রুটি মেরামতে চীনা ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান হারবিন কোম্পানির প্রকৌশলীরা ইতিমধ্যে কাজ শুরু করেছেন। তবে কবে নাগাদ ইউনিট দুটি চালু হবে, তা এখনই বলা কঠিন বলে তিনি জানান।
কেন্দ্রটিতে মোট তিনটি ইউনিট রয়েছে। দ্বিতীয় ইউনিটটি ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার, যা ২০২০ সালের নভেম্বর থেকে বন্ধ। সংস্কারের জন্য সেখানে কয়েক বছর ধরে ওভারহোলিংয়ের কাজ চলছে। ফলে সচল ছিল কেবল প্রথম ও তৃতীয় ইউনিট। সেই দুটিও বন্ধ হওয়ায় পুরো কেন্দ্রের উৎপাদন থেমে গেছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, অক্টোবরের যেকোনো সময় দ্বিতীয় ইউনিট চালুর সম্ভাবনা আছে।
কেন্দ্র কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার প্রথম ইউনিট থেকে প্রতিদিন ৫০ থেকে ৫৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যায়। এটি চালাতে দৈনিক ৮০০ থেকে ৯০০ মেট্রিক টন কয়লা লাগে। আর ২৭৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার তৃতীয় ইউনিট থেকে প্রতিদিন ১৬০ থেকে ১৭০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ গ্রিডে সরবরাহ হতো। এই ইউনিটের জন্য দৈনিক কয়লা লাগে ২ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন। অর্থাৎ দুই ইউনিট মিলিয়ে গ্রিডে প্রতিদিন প্রায় ২১০ থেকে ২২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যুক্ত হতো, যা এখন বন্ধ।
এই বন্ধের ঘটনা নতুন নয়। কর্তৃপক্ষই স্বীকার করেছে, যান্ত্রিক ত্রুটিতে প্রায় সময়ই ইউনিট দুটির উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। এ বছরের ১৯ জানুয়ারিও বয়লারের টিউব ফেটে কেন্দ্রটির উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়েছিল। এরপর ছয় দিন বন্ধ থাকার পর ১ মে আবার উৎপাদন শুরু হয়। অর্থাৎ কয়েক মাসের ব্যবধানে একই ধরনের সংকট বারবার দেখা দিচ্ছে। এতে ইউনিটগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ ও নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।
জাতীয় গ্রিডের দিক থেকে দেখলে ২১০ থেকে ২২৫ মেগাওয়াট উৎপাদন বন্ধ হওয়া একটি উল্লেখযোগ্য ঘাটতি। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহে এর প্রভাব পড়তে পারে। তবে এই বন্ধের কারণে সরবরাহে কতটা ঘাটতি তৈরি হয়েছে বা লোডশেডিং বেড়েছে কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো তথ্য জানা যায়নি। বিদ্যুৎ বিভাগ বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকেও এ নিয়ে কিছু বলা হয়নি। প্রথম ও তৃতীয় ইউনিটের ঠিক কী ধরনের ত্রুটি দেখা দিয়েছে, তাও স্পষ্ট করা হয়নি।
এখন নজর থাকবে মেরামত কত দ্রুত শেষ হয়, সেদিকে। একই সঙ্গে অক্টোবরের মধ্যে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা দ্বিতীয় ইউনিট সত্যিই চালু হয় কি না, সেটিও দেখার বিষয়। তা হলে আংশিকভাবে হলেও কেন্দ্রটি আবার বিদ্যুৎ দিতে পারবে। আর বারবার এই ত্রুটির স্থায়ী সমাধান না হলে জাতীয় গ্রিডের জন্য এটি একটি ধারাবাহিক ঝুঁকি হয়ে থাকবে।

