গত ২৭ সেপ্টেম্বর দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডে (টিবিএস) প্রকাশিত এক সরেজমিন অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে সীতাকুণ্ড থেকে মিরসরাই পর্যন্ত প্রায় ৭০ কিলোমিটার মহাসড়কের ডিভাইডারে অবৈধ সবজি চাষের ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরা হয়। প্রতিবেদনে দেখানো হয়, সড়ক ও জনপথ বিভাগের রোপণ করা সৌন্দর্যবর্ধনকারী গাছ কেটে বা ক্ষতিগ্রস্ত করে সেখানে কীভাবে পুঁইশাক, লালশাক, পাটশাক, শিম, বেগুন, ঢ্যাঁড়শ, ঝিঙে, করলা, মরিচ, মুলা, মিষ্টি কুমড়া ও ধনেপাতার মতো বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ করা হচ্ছিল। এমনকি লতানো সবজির জন্য ডিভাইডারের ওপর বাঁশের মাচাও খাটানো হয়েছিল, যা দ্রুতগতির যানবাহনের জন্য মারাত্মক দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি করে। এই সংবাদটি নজরে আসার পরপরই চট্টগ্রাম সওজ বিভাগ গত ৪ অক্টোবর রবিবার থেকে মাইকিংয়ের মাধ্যমে সচেতসামূলক প্রচার ও স্বেচ্ছায় খেত সরিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানায়। পরবর্তীতে ৫ ও ৬ অক্টোবর সোমবার ও মঙ্গলবার একটানা উচ্ছেদ পরিচালনা করে অবৈধ চাষাবাদ গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।
চট্টগ্রাম সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাইদুল ইসলাম জানান, প্রশাসনের আহ্বানের পর অনেকেই স্বতঃস্ফূর্তভাবে নিজেদের চাষ করা সবজি তুলে নিয়েছেন এবং বাকিগুলো সওজের উচ্ছেদকারী দল নিজ দায়িত্বে পরিষ্কার করেছে। সরকারি জমি ব্যবহার সংক্রান্ত নীতিমালার আওতায় অব্যবহৃত খাসজমি ব্যবহারের সুযোগ থাকলেও, মহাসড়কের মতো সংবেদনশীল ও জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর মূল ডিভাইডার কোনোভাবেই ব্যক্তিগত কৃষিকাজ বা স্বার্থে ব্যবহার করার আইনি সুযোগ নেই। দ্রুতগামী লেনের ঠিক পাশেই মাত্র কয়েক মিটার দূরত্বে ট্রাফিক ঝুঁকির মধ্যে এভাবে শাকসবজি চাষ করা সড়ক নিরাপত্তার মারাত্মক লঙ্ঘন।
২০১৬ সালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ককে সবুজায়ন, সৌন্দর্যবর্ধন ও পরিবেশবান্ধব করতে সওজের পক্ষ থেকে ডিভাইডার বরাবর প্রায় ৫০ হাজার ফুল ও ছায়াদার গাছের চারা রোপণ করা হয়েছিল। এর মধ্যে কাঞ্চন, করবী, রাধাচূড়া, জারুল, সোনালু, কৃষ্ণচূড়া, কদম ও পলাশের মতো দেশীয় নানা প্রজাতির গাছ ছিল অন্যতম। কিন্তু গত কয়েক বছরে অবৈধভাবে সবজি চাষের পরিধি বাড়াতে গিয়ে এসব মূল গাছের একটি বড় অংশ কেটে ফেলা হয় বা ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়, যা মহাসড়কের সার্বিক নান্দনিক সৌন্দর্য নষ্ট করে দেয়। সওজ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সীতাকুণ্ড ও মিরসরাই অংশের পুরো ৭০ কিলোমিটারজুড়ে পর্যায়ক্রমে নতুন করে চারা রোপণ প্রক্রিয়া চালু থাকবে এবং নতুন রোপণ করা চারাগুলো যাতে পুনরায় কেউ কেটে ফেলতে বা ক্ষতিগ্রস্ত করতে না পারে, সেজন্য নিয়মিত মনিটরিং ও নজরদারি আরও জোরদার করা হবে।

