দেশে আবারও হামের সংক্রমণ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামজনিত উপসর্গ নিয়ে সারা দেশে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ৩৪৯ জনের মধ্যে হাম সন্দেহজনক ও নিশ্চিত সংক্রমণের তথ্য পাওয়া গেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর (ডিজিএইচএস) শুক্রবার, ৯ অক্টোবর নিয়মিত হামের পরিস্থিতি প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক রোগ। আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি, কাশি বা শ্বাসতন্ত্রের মাধ্যমে ছড়ানো এই ভাইরাস দ্রুত একজন থেকে অন্যজনে পৌঁছাতে পারে। বিশেষ করে শিশু, অপুষ্টিতে ভোগা মানুষ এবং যাদের টিকাদানের সুরক্ষা নেই, তাদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি বেশি থাকে।
সাম্প্রতিক সময়ে দেশে হামের নতুন সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার ওপরও বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে। নতুন আক্রান্তদের শনাক্তকরণ, চিকিৎসা এবং সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্যকর্মীদের আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হচ্ছে।
হামের বিস্তার নিয়ন্ত্রণে সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো নিয়মিত টিকাদান নিশ্চিত করা। তবে বিভিন্ন কারণে কিছু শিশু টিকার আওতার বাইরে থেকে গেলে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার সুযোগ তৈরি হয়। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, টিকাদানের হার বাড়ানো এবং সময়মতো রোগ শনাক্ত করা গেলে হামের ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এক দিনে ১ হাজার ৩৪৯ জন নতুন সন্দেহজনক ও নিশ্চিত রোগী শনাক্ত হওয়া পরিস্থিতির গুরুত্ব তুলে ধরছে। এর সঙ্গে মৃত্যুর ঘটনাও স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের জন্য সতর্ক সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু চিকিৎসার মাধ্যমে হাম নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। আক্রান্ত ব্যক্তিকে দ্রুত শনাক্ত করে আলাদা রাখা, টিকাবিহীন শিশুদের টিকার আওতায় আনা এবং জনগণের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো জরুরি।
দেশে হামের সংক্রমণ বাড়তে থাকায় স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্টরা সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন। বিশেষ করে শিশুদের টিকাদান সম্পন্ন করা, জ্বরের সঙ্গে শরীরে লালচে ফুসকুড়ি দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শ এড়িয়ে চলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে হামের বিস্তার রোধে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি পরিবার ও সামাজিক পর্যায়ে সচেতনতা বাড়ানোই হতে পারে সবচেয়ে কার্যকর প্রতিরোধ ব্যবস্থা।

