দেশের ক্রীড়া খাতকে নতুনভাবে এগিয়ে নিতে বড় উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। তরুণ প্রজন্মকে খেলাধুলায় সম্পৃক্ত করা, মাদক থেকে দূরে রাখা এবং খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্য নিয়ে সারা দেশে ১ হাজার নতুন খেলার মাঠ নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু শনিবার লালমনিরহাট স্টেডিয়াম পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সরকারের এই পরিকল্পনার কথা জানান।
মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের ক্রীড়া খাতে দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটাতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বেশ কিছু নির্দেশনা দিয়েছেন। এর অংশ হিসেবে গ্রাম থেকে শহর পর্যন্ত নতুন খেলার মাঠ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে খেলার মাঠের সংকট থাকায় অনেক তরুণ নানা নেতিবাচক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে। বিশেষ করে মাঠের অভাবে কিছু যুবক মাদকাসক্তির দিকে ঝুঁকে যাচ্ছে। নতুন মাঠ নির্মাণ করা হলে তরুণদের খেলাধুলার সুযোগ বাড়বে এবং তাদের ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
সরকারের এই উদ্যোগের আওতায় শুধু নতুন মাঠ নির্মাণ নয়, স্থানীয় পর্যায়ে ক্রীড়া অবকাঠামো উন্নয়নের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। যেসব উপজেলায় এখনো কোনো স্টেডিয়াম নেই, সেসব জায়গায় স্টেডিয়াম নির্মাণের বিষয়েও সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে বলে জানান মন্ত্রী।
তিনি আরও জানান, প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে প্রধানমন্ত্রীর গোল্ড কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট আবার চালু করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। নিয়মিতভাবে এই আয়োজন চালিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের। এর মাধ্যমে দেশের তরুণদের মধ্যে ফুটবলসহ বিভিন্ন খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার বিষয়ে আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, দেশের প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের বিকাশে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। প্রয়োজনীয় সুযোগ, প্রশিক্ষণ ও সহায়তা পেলে বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও ভালো করার সুযোগ পাবেন।
তিনি বলেন, ক্রীড়াক্ষেত্রে যথাযথ মনোযোগ দেওয়া হলে তরুণ প্রতিভাগুলো সামনে আসবে এবং দেশের জন্য সুনাম বয়ে আনতে সক্ষম হবে।
লালমনিরহাট স্টেডিয়াম পরিদর্শনের সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান, জেলা পরিষদের প্রশাসক একেএম মোমিনুল হক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সাধারণ) মো. রাসেল মিয়া, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনোনিতা দাস, জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামানসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও রাজনৈতিক নেতারা।

