নবম জাতীয় পে-স্কেলের আওতায় সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নতুন কাঠামোতে বেতন ভাতা দেওয়ার চূড়ান্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন হলেও এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের নতুন স্কেলের অর্থ হাতে পেতে আরও কিছুটা বিলম্ব হতে যাচ্ছে। নতুন পে-স্কেল কার্যকর করার জন্য পৃথক কোনো সরকারি প্রজ্ঞাপনের প্রয়োজন না থাকা সত্ত্বেও কেন এই দেরি হচ্ছে, তা নিয়ে সারাদেশের শিক্ষক সমাজে তীব্র উদ্বেগ ও নানামুখী প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। মূলত শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন অধিদপ্তরের হিসাব ব্যবস্থার প্রযুক্তিগত তারতম্য এবং বিশেষ করে এমপিওভুক্ত মাদ্রাসা শিক্ষা খাতের এনালগ পদ্ধতির জটিলতার কারণেই এই প্রশাসনিক বিলম্বের আশঙ্কা করছে অর্থ বিভাগ।
অর্থ বিভাগের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দেশের স্কুল, কলেজ ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতার হিসাব ডিজিটাল পদ্ধতিতে অর্থাৎ কম্পিউটারের মাধ্যমে আধুনিক উপায়ে সম্পন্ন করা হয়। কিন্তু বিপরীত দিকে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে থাকা শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন নির্ধারণের বড় একটি অংশের কাজ এখনও হাতে-কলমে ও সনাতন পদ্ধতিতে সম্পন্ন করতে হচ্ছে। এই ডিজিটাল ও এনালগ ব্যবস্থার বৈপরীত্যই মূলত নতুন স্কেলের হিসাব চূড়ান্ত করার ক্ষেত্রে মূল বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অর্থ বিভাগের এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, আগামী নভেম্বর বা ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন বেতন স্কেল অনুযায়ী শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন ছাড় করার জোর চেষ্টা চালানো হচ্ছে, তবে কারিগরি জটিলতার কারণে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা পুরোপুরি নিশ্চিত করা যাবে কি না, সে বিষয়ে এখনও স্পষ্ট করে কিছু বলা সম্ভব হচ্ছে না।
মাদ্রাসার হিসাব জটিলতার কারণে স্কুল, কলেজ ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের আগেভাগে নতুন স্কেলের বেতন প্রদান করা সম্ভব কি না; এমন প্রশ্নে অর্থ বিভাগের কর্মকর্তারা স্পষ্ট জবাব দিয়েছেন। তারা জানিয়েছেন, সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান একই মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকায় কোনো একটি নির্দিষ্ট অংশকে বাদ দিয়ে অন্যদের আগে বেতন দেওয়া প্রশাসনিক দিক থেকে সমীচীন নয়। শিক্ষক সমাজের মধ্যে অভ্যন্তরীণ বৈষম্য এড়াতেই সবাইকে একই সাথে নতুন বেতন কাঠামোর আওতায় আনার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, ইতোপূর্বে শিক্ষা উপদেষ্টা ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিশ্চিত করেছিলেন যে সরকারি চাকরিজীবীদের মতো এমপিওভুক্ত শিক্ষকরাও সমহারে নতুন পে-স্কেলের সুফল পাবেন।
বর্তমানে সারাদেশে ছয় লাখেরও বেশি শিক্ষক-কর্মচারী এমপিওভুক্ত সুবিধা পেয়ে থাকেন। এর মধ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) অধীনে প্রায় চার লাখ, মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে পৌনে দুই লাখ এবং কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে ২৩ হাজারেরও বেশি শিক্ষক-কর্মচারী রয়েছেন। দেশের হাতে গোনা কয়েকটি নামি-দামি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব তহবিল থেকে অতিরিক্ত অর্থ দেওয়ার সক্ষমতা থাকলেও সিংহভাগ গ্রাম ও প্রান্তিক অঞ্চলের প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব কোনো পর্যাপ্ত আয় নেই। ফলে সরকারি এই পে-স্কেলের ওপরই সম্পূর্ণ নির্ভর করতে হয় কোটি মানুষের এই পেশাজীবী সমাজকে। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির এই সময়ে দ্রুততম সময়ের মধ্যে হিসাব পদ্ধতির আধুনিকায়ন ঘটিয়ে পে-স্কেল বাস্তবায়নের জোর দাবি জানিয়েছেন জাতীয় শিক্ষক নেতৃবৃন্দ।

