বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তাদের মেয়াদকালে জাতীয় পে-স্কেল ঘোষণা করে এর বিশাল রাজস্ব ও আর্থিক দায়ভার নির্বাচিত সরকারের কাঁধে চাপিয়ে দিয়ে গেছে বলে মন্তব্যে তোলপাড় সৃষ্টি করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে গিয়ে তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রশাসনিক কৌশলের প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, “ড. ইউনূস কত চালাক, উনি এটাও আমাদের ওপর চাপিয়ে দিয়ে গেছেন যে বিএনপি এলে বা যে দলই ক্ষমতায় আসবে, তারা এর সমাধান করবে।” প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রতি বছর নিয়মিত বিরতিতে বা আনুপাতিক হারে বেতন বাড়ানো হলে রাজকোষের ওপর এতটা বড় ধরনের অর্থনৈতিক চাপ তৈরি হতো না।
প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম তাঁর বক্তব্যে যুক্তি দেখান যে, জাতীয় পে-স্কেল যদি একবারে দীর্ঘ বিরতিতে না দিয়ে প্রতি বছর মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের সাথে সামঞ্জস্য রেখে ঘোষণা করা হতো, তবে নতুন রূপরেখা কার্যকর করতে গিয়ে নির্বাচিত সরকারকে এই প্রশাসনিক ও আর্থিক হিমশিম খেতে হতো না। অন্তর্বর্তী সরকার চাইলে তাদের দায়িত্ব পালনকালে এই অর্থনৈতিক রূপরেখা ও বাজেট বরাদ্দ চূড়ান্ত করে দিয়ে যেতে পারত। কিন্তু তা না করে রাজনৈতিকভাবে নির্বাচিত সরকারের ওপর এই জনপ্রিয় কিন্তু ব্যয়বহুল সিদ্ধান্তের সার্বিক বাস্তবায়নের দায় ছেড়ে দেওয়াকে তিনি কৌশলী সিদ্ধান্ত হিসেবে অভিহিত করেন।
উল্লেখ্য, অর্থ বিভাগ কর্তৃক গত ১ জুলাই ২০২৬ থেকে সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য নবম জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬ কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল এবং এ সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি হয় গত ১৯ সেপ্টেম্বর। অনুমোদিত বেতন কাঠামো অনুযায়ী রাজকোষের ওপর এককালীন বড় চাপ সামলাতে এটি তিন ধাপে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রথম ধাপে ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীরা বর্ধিত মূল বেতনের ৫০ শতাংশ এবং নবম ও তদূর্ধ্ব গ্রেডের ক্যাডার ও নন-ক্যাডার কর্মকর্তারা ৪০ শতাংশ পাবেন।
পরবর্তী ধাপে ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত সময়ে ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীরা বর্ধিত মূল বেতনের ৭৫ শতাংশ এবং নবম ও তদূর্ধ্ব গ্রেডের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা ৭০ শতাংশ হারে সুবিধা পাবেন। অবশেষে ২০২৭ সালের ১ জুলাই থেকে শুরু হতে যাওয়া নতুন অর্থবছরে সরকারি চাকরিজীবীরা নতুন কাঠামোর পূর্ণাঙ্গ বর্ধিত মূল বেতন ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক সুযোগ-সুবিধা ভোগ করবেন। প্রতিমন্ত্রীর মতে, প্রশাসনিকভাবে এই ধাপভিত্তিক বাস্তবায়নের বাধ্যবাধকতা তৈরি হয়েছে মূলত অন্তর্বর্তী সরকারের রেখে যাওয়া রাজস্ব ঘাটতি ও বাজেট বরাদ্দের সীমাবদ্ধতার কারণে।

