আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবস উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এক ব্যতিক্রমী আয়োজন হয়েছে। রোববার এক দিনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের প্রতীকী দায়িত্ব পালন করেছেন ঢাকার একটি কলেজের উচ্চমাধ্যমিক দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী শীতল। কন্যাশিশুর শিক্ষা, নেতৃত্ব ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধের বার্তা সামনে আনাই ছিল এই আয়োজনের উদ্দেশ্য।
আয়োজনটি হয়েছে প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের ‘গার্লস টেকওভার’ উদ্যোগের অংশ হিসেবে। সংস্থাটির সংবাদ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, এই উদ্যোগে কিশোরীরা প্রতীকীভাবে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, দূতাবাস ও উন্নয়ন সংস্থার শীর্ষ পদে বসার সুযোগ পায়। এর মাধ্যমে কন্যাশিশুদের নেতৃত্বের সক্ষমতা, আকাঙ্ক্ষা ও অধিকারের কথা সমাজের সামনে তুলে ধরা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের কার্যালয়ে এসে শীতল আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রতীকী দায়িত্ব নেন।
দিনটি শীতলের জন্য ছিল শুধু আনুষ্ঠানিকতার নয়, শেখারও। দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা নিয়ে তিনি বলেন, শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। তাঁর মতে, এখন হাতে যে সময় আছে, সেটিই তাঁদের সবচেয়ে বড় সম্পদ। উপাচার্যের কাছ থেকে পাওয়া উপদেশ তিনি সারা জীবন মনে রাখবেন বলেও জানান। শীতল আরও বলেন, পড়াশোনা শেষ করে স্বপ্নের গন্তব্যে পৌঁছাতে তিনি আগের চেয়ে অনেক বেশি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ বোধ করছেন।
উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলামও কন্যাশিশুদের সুযোগ নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শীতলের মতো প্রতিটি মেয়ের স্বপ্ন এগিয়ে নিতে শিক্ষার দরজা খোলা রাখতে হবে। তাদের কথা শুনতে হবে এবং সিদ্ধান্ত নেওয়া ও নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ করে দিতে হবে। উপাচার্যের ভাষায়, কন্যাশিশুর শিক্ষা ও অধিকারে বিনিয়োগই একটি সমতাপূর্ণ ভবিষ্যৎ গড়ার ভিত্তি।
প্রতীকী দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে শীতল দিনভর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন আলোচনায় অংশ নেন। সেখানে তিনি বাল্যবিবাহের ক্ষতিকর প্রভাব, শিশুর অধিকার সুরক্ষা এবং তরুণীদের নেতৃত্ব গড়ে তোলার গুরুত্ব তুলে ধরেন। একজন সমবয়সী কিশোরীর মুখে এসব কথা শোনা স্বাভাবিকভাবেই বাড়তি তাৎপর্য বহন করে। কারণ, যাঁদের নিয়ে আলোচনা, তাঁদেরই একজন নিজের অভিজ্ঞতা ও দৃষ্টিভঙ্গি থেকে কথা বলেছেন।
এ বছর আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবসের বৈশ্বিক প্রতিপাদ্য ‘বাল্যবিবাহ বন্ধ করুন এবং কন্যাশিশুর অধিকারে বিনিয়োগ করুন’। বাংলাদেশে দিবসটির প্রতিপাদ্য ঠিক করা হয়েছে ‘শিশুবিয়ে আর নয়, কন্যা করবে বিশ্বজয়’। শীতলের প্রতীকী দায়িত্ব গ্রহণ এই প্রতিপাদ্যের সঙ্গেই সংগতিপূর্ণ বার্তা বহন করে।
এ ধরনের উদ্যোগের মূল্য মূলত প্রতীকী হলেও তা অর্থহীন নয়। একজন কিশোরী যখন দেশের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যালয়ে নেতৃত্বের আসনে বসেন, তখন তা অন্য মেয়েদের মনেও স্বপ্ন দেখার সাহস জোগাতে পারে। তবে বাস্তবে কন্যাশিশুদের শিক্ষা ও নেতৃত্বের পথ সুগম করতে প্রয়োজন নীতি, সামাজিক সচেতনতা ও টেকসই বিনিয়োগ। বাল্যবিবাহের মতো সমস্যা মোকাবিলায় পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র, সবার সম্মিলিত উদ্যোগ জরুরি।

