রংপুরে জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অবমূল্যায়ন ও অনিয়মের অভিযোগ তুলে প্রকাশ্যে ক্ষোভ জানিয়েছেন রংপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবুর রহমান বেলাল। জনপ্রতিনিধিদের যথাযথ মূল্য না দিলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি। এই বক্তব্যের জবাবে জেলা প্রশাসক বলেছেন, সভায় পারস্পরিক সম্মান বজায় রেখে এবং শব্দচয়নে সতর্ক থেকে কথা বলা উচিত।
রোববার সকাল সাড়ে ১০টায় জেলা প্রশাসনের সম্মেলনকক্ষে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় রংপুরের চারটি সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্য এবং জেলা প্রশাসন ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বক্তব্য দিতে গিয়ে মাহবুবুর রহমান বেলাল প্রশাসনের আচরণ নিয়ে তীব্র প্রশ্ন তোলেন। তাঁর ভাষ্য, কর্মকর্তারা সংসদ সদস্যদের গুরুত্ব দিচ্ছেন না। ক্ষোভের সুরে তিনি জানতে চান, কর্মকর্তারা কি আকাশ বা মঙ্গলগ্রহ থেকে এসেছেন। তিনি মনে করিয়ে দেন, সংসদ সদস্যরা জনগণের ভোটে নির্বাচিত।
তাঁর অভিযোগের মধ্যে প্রধান দুটি বিষয় ছিল। প্রথমত, সরকারি বিভিন্ন কমিটিতে সংসদ সদস্যদের প্রতিনিধি রাখা হচ্ছে না। দ্বিতীয়ত, সার ডিলার নিয়োগে অনিয়ম হয়েছে। এ নিয়োগে দলীয়করণ ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ তুলে তিনি দাবি করেন, যোগ্য ও দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ ব্যবসায়ীদের বাদ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ সুবিধা দিতে একই পরিবারের একাধিক সদস্যকে ডিলারশিপ দেওয়া হয়েছে বলেও তাঁর অভিযোগ। তাঁর মতে, এমন অস্বচ্ছ কর্মকাণ্ডে প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধি, দুই পক্ষই সাধারণ মানুষের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে।
বেলাল বলেন, জনগণের ন্যায্য দাবি তুলে ধরাই জনপ্রতিনিধিদের প্রথম দায়িত্ব। প্রশাসন যদি তাঁদের যথাযথ মূল্যায়ন না করে এবং জনস্বার্থ উপেক্ষিত হয়, তবে প্রয়োজনে সাধারণ মানুষকে নিয়ে মাঠে নামা ছাড়া বিকল্প থাকবে না।
সংসদ সদস্যের বক্তব্যের পর সভাপতির আসন থেকে জবাব দেন জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহান। তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা কমিটি জেলার সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম। এখানে সরকারি কর্মকর্তাসহ উপস্থিত সবারই উচিত পারস্পরিক সম্মান ও মর্যাদা বজায় রেখে আলোচনা করা। বক্তব্য দেওয়ার সময় শব্দ বাছাইয়ে সবাইকে আরও দায়িত্বশীল ও সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন তিনি। প্রতিবেদনে সার ডিলার নিয়োগ বা কমিটিতে প্রতিনিধি না রাখার অভিযোগ নিয়ে জেলা প্রশাসকের আলাদা কোনো বক্তব্য উল্লেখ করা হয়নি।
ঘটনাটি প্রশাসন ও নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের সম্পর্কের একটি পরিচিত টানাপোড়েনকে সামনে এনেছে। সংসদ সদস্যরা জনগণের কাছে জবাবদিহি করেন এবং স্থানীয় সমস্যার সমাধানে সরকারি দপ্তরের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন। অন্যদিকে প্রশাসন নীতিমালা ও নির্ধারিত প্রক্রিয়া মেনে কাজ করে। এই দুই পক্ষের মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতি দেখা দিলে তার প্রভাব পড়ে সেবার মানে। বিশেষ করে সারের মতো কৃষি উপকরণ বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠলে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হন কৃষকেরা।
আবার সভার ভাষা ও আচরণ নিয়ে জেলা প্রশাসকের আপত্তিও অযৌক্তিক নয়। সরকারি ফোরামে কঠোর ভাষা ব্যবহার হলে মূল ইস্যু আড়ালে পড়ে যেতে পারে। তাই অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং আলোচনার মাধ্যমে সমাধানই কাম্য বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। সার ডিলার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং বিভিন্ন কমিটিতে জনপ্রতিনিধিদের ভূমিকা স্পষ্ট করা গেলে এ ধরনের বিরোধ অনেকটাই কমতে পারে।

