লক্ষ্মীপুরে রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে আটক করে নির্যাতন, বিদ্যুৎ শক দেওয়া এবং ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে ৭০ লাখ টাকা আদায়ের অভিযোগ তুলেছেন সাবেক ছাত্রনেতা আব্দুর রহমান বিপ্লব। এ ঘটনায় তৎকালীন লক্ষ্মীপুর সদর থানার ওসি লোকমান হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের বিচার এবং ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন তিনি। তবে অভিযুক্তদের বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি।
আজ সোমবার দুপুরে লক্ষ্মীপুর প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি এসব অভিযোগ তোলেন। বিপ্লব লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রশিবিরের সাবেক ক্যাম্পাস সেক্রেটারি ছিলেন।
বিপ্লবের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৮ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর সকালে তৎকালীন ওসি লোকমান হোসেনের নির্দেশে পুলিশ লক্ষ্মীপুর শহরের উত্তর তেমুহনী এলাকার একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাঁকে আটক করে। তখন তাঁর চোখ বেঁধে হাতকড়া পরানো হয়। পরে থানায় নিয়ে তাঁকে শারীরিক নির্যাতন করা হয় বলে তিনি দাবি করেন।
তাঁর ভাষ্য, ২০১৯ সালের ৫ জানুয়ারির জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তাঁকে নানা বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। একপর্যায়ে তাঁকে বিদ্যুৎ শক দেওয়া হয়। গভীর রাতে পুলিশ সদস্যরা তাঁকে গাড়িতে করে রামগতি উপজেলার চর আলেকজান্ডার বেড়িবাঁধ এলাকায় নিয়ে যান বলে অভিযোগ করেন তিনি। সেখানে মারধরের পাশাপাশি হত্যার ভয় দেখিয়ে তাঁর শেষ ইচ্ছার কথা জানতে চাওয়া হয় বলেও তিনি দাবি করেন।
বিপ্লব আরও অভিযোগ করেন, পরে তাঁকে রামগতি থানায় নিয়ে নির্যাতন করা হয় এবং শরীরে ইনজেকশন দেওয়া হয়। এরপর লক্ষ্মীপুর সদর থানায় নেওয়ার পর তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। একপর্যায়ে তাঁকে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
অর্থ আদায় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ক্রসফায়ার থেকে বাঁচাতে তাঁর বাবার কাছে তৎকালীন ওসি এক কোটি টাকা দাবি করেন। পরে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ৭০ লাখ টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। তাঁর দাবি, সকাল ১০টার আগেই তাঁর বাবার কাছ থেকে ওই টাকা নেওয়া হয়। তখন তাঁর বাবা, মা ও নিকটাত্মীয়রা উপস্থিত ছিলেন।
বিপ্লবের বক্তব্য অনুযায়ী, হাসপাতালে চিকিৎসার পর তাঁকে সাত থেকে আটটি মামলায় আসামি দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়। এর মধ্যে দুটি মামলায় ১০ দিন করে মোট ২০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছিল। আদালত সেই আবেদন নামঞ্জুর করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এসব নির্যাতন ও মামলার কারণে শারীরিক, মানসিক ও আর্থিকভাবে ব্যাপক ক্ষতির শিকার হয়েছেন বলে দাবি করেন বিপ্লব। তাঁর পরিবারেরও কয়েক কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগ তাঁর।
সংবাদ সম্মেলনে বিপ্লবের সঙ্গে আরও কয়েকজন ভুক্তভোগী উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের অভিযোগ, তৎকালীন সময়ে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে বিভিন্ন সংগঠনের ছাত্রনেতা ও কর্মীরা নির্যাতন, চাঁদাবাজি ও হয়রানির শিকার হয়েছিলেন। তাঁদের দাবি, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তা চাকরিতে বহাল আছেন। বিপ্লবসহ অন্য ভুক্তভোগীরা অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে মামলা, বিচার এবং ক্ষতিপূরণের দাবি জানান।
এসব অভিযোগ নিয়ে সাবেক ওসি লোকমান হোসেন বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। জানা গেছে, লোকমান হোসেন বর্তমানে পুলিশের আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নে (এপিবিএন) কর্মরত আছেন।
অভিযোগগুলো গুরুতর, তবে এখন পর্যন্ত সেগুলো একতরফা দাবি। কোনো তদন্ত বা আদালতের সিদ্ধান্তে এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই হয়নি। এ ধরনের অভিযোগে সাধারণত নিরপেক্ষ তদন্তের প্রয়োজন হয়, যেখানে অভিযোগকারী ও অভিযুক্ত উভয় পক্ষের বক্তব্য, চিকিৎসা-নথি এবং আদালতের কাগজপত্র যাচাই করা হয়। বিশেষ করে অর্থ লেনদেনের অভিযোগে কীভাবে ও কার মাধ্যমে টাকা দেওয়া হয়েছিল, তার প্রমাণ গুরুত্বপূর্ণ হবে। অভিযুক্ত কর্মকর্তার বক্তব্য পাওয়া গেলে পুরো চিত্র আরও স্পষ্ট হবে।
সূত্রঃ বাংলা ট্রিবিউন

