কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা সদরের বাজারে দুই মেয়েশিশুকে রেখে চলে যান তাদের মা। চিপস কিনে দেওয়ার কথা বলে তিনি শিশুদের সেখানে রেখে যান বলে জানা গেছে। পরে শিশুদের চাচি তাদের চিনতে পেরে বাড়ি নিয়ে যান। মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে মা জানান, তিনি সন্তানদের আর নিজের কাছে রাখতে চান না। বর্তমানে দুই শিশু তাদের বাবার কাছে আছে।
গত রোববার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। শিশু দুটির বয়স পাঁচ বছর ও দেড় বছর। তাদের বাবা পেশায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাচালক। তিনি কুমিল্লা নগরে অটোরিকশা চালান। শিশুদের মায়ের বাড়ি বরুড়া উপজেলায়।
স্থানীয় লোকজনের ভাষ্য, বাজারে দুই শিশুকে ঘোরাফেরা ও কান্না করতে দেখে কয়েকজন এগিয়ে আসেন। পাঁচ বছর বয়সী শিশুটি তাঁদের জানায়, মা চিপস আনতে তাদের সেখানে রেখে গেছেন। এরপর শিশু দুটির ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
শিশুদের চাচি বাজারে গিয়ে তাদের দেখতে পান। তিনি চিনতে পেরে দুজনকে নিজের বাড়ি নিয়ে যান। পরে মুঠোফোনে মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করলে মা জানান, তিনি কুমিল্লা নগরে চলে এসেছেন। সন্তানদের আর তিনি নিজের কাছে রাখতে চান না।
পুলিশ জানায়, প্রায় ১২ বছর আগে শিশুদের মা-বাবার বিয়ে হয়েছিল। প্রায় পাঁচ মাস আগে তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়। বিচ্ছেদের পর দুই মেয়েকে নিজের কাছে রেখেছিলেন মা। পরে তিনি আবার বিয়ে করেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়ার পর পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করেছে। ব্রাহ্মণপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফারুক হোসেন গতকাল সোমবার রাতে প্রথম আলোকে জানান, বর্তমানে দুই শিশু তাদের বাবার কাছে আছে। পুলিশ এ বিষয়ে খোঁজখবর রাখছে।
ঘটনাটি আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে, পারিবারিক বিচ্ছেদের সবচেয়ে বড় ধাক্কা পড়ে শিশুদের ওপর। এত ছোট বয়সে মায়ের কাছ থেকে এভাবে পরিত্যক্ত হওয়া শিশুদের মানসিক বিকাশের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। ভাগ্যক্রমে স্বজনেরা দ্রুত তাদের খুঁজে পেয়েছেন এবং শিশুরা এখন নিরাপদ হেফাজতে আছে।
তবে বেশ কিছু প্রশ্নের উত্তর এখনো মেলেনি। মা কেন সন্তানদের রেখে গেলেন, তা প্রতিবেদনে স্পষ্ট নয়। তাঁর বক্তব্যও সরাসরি পাওয়া যায়নি। পুলিশের তদন্ত কোন পর্যায়ে আছে এবং মায়ের বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, তাও জানা যায়নি। বিবাহবিচ্ছেদের পর শিশুদের অভিভাবকত্ব নিয়ে কোনো আইনি সিদ্ধান্ত ছিল কি না, সেই তথ্যও নেই।
শিশুদের দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা ও যত্নের বিষয়টি এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। বাবা পেশাগত কাজে দিনের বড় অংশ বাইরে থাকেন। তাই দেড় বছর বয়সী শিশুর দেখভালের দায়িত্ব কে নেবে, সে প্রশ্ন সামনে আসতে পারে। প্রয়োজনে স্থানীয় সমাজসেবা কার্যালয় বা শিশু সুরক্ষা সংস্থার সহায়তা নেওয়া যেতে পারে।

