প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিনে পর্যটন কার্যক্রম পরিচালনার নিয়মে পরিবর্তন আসতে পারে। পর্যটন মৌসুমের মেয়াদ, প্রতিদিন কতজন পর্যটক দ্বীপে যেতে পারবেন এবং পর্যটকবাহী জাহাজ কোথা থেকে ছেড়ে যাবে—এসব বিষয় নতুন করে পর্যালোচনা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। দ্বীপের প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা, পর্যটকদের নিরাপত্তা এবং যাতায়াত ব্যবস্থাপনার বিষয়গুলো বিবেচনায় রেখেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
সোমবার (১২ অক্টোবর) সচিবালয়ে সেন্টমার্টিনে পর্যটক যাতায়াত ব্যবস্থাপনা নিয়ে আয়োজিত আন্তমন্ত্রণালয় সভায় এ কথা জানান পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু। সভায় দ্বীপের পরিবেশের ওপর পর্যটনের প্রভাব এবং পর্যটকদের যাতায়াত ও অবস্থান নিয়ন্ত্রণের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।
মন্ত্রী জানান, সেন্টমার্টিনের প্রাকৃতিক ভারসাম্য অক্ষুণ্ন রেখে পর্যটন কার্যক্রম পরিচালনা করা জরুরি। এ জন্য দ্বীপটি কতসংখ্যক পর্যটকের চাপ সহ্য করতে পারে, বর্জ্য কীভাবে ব্যবস্থাপনা করা হবে, নিরাপদ পানির প্রাপ্যতা কতটা রয়েছে এবং পর্যটনের কারণে সামুদ্রিক প্রতিবেশের কী ধরনের ক্ষতি হতে পারে—এসব বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলোর মতামত নিয়ে বিদ্যমান নিয়মকানুন পর্যালোচনার পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানানো হবে।
বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, সেন্টমার্টিনে পর্যটন কার্যক্রম বছরের নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ। গত ১ ফেব্রুয়ারি থেকে দ্বীপটিতে পর্যটকদের যাতায়াত বন্ধ রয়েছে। নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ১ নভেম্বর থেকে নতুন পর্যটন মৌসুম শুরু হওয়ার কথা।
২০২৫ সালের ২২ অক্টোবর জারি করা প্রজ্ঞাপন অনুসারে, নভেম্বর মাসে পর্যটকেরা দিনে দ্বীপটি ঘুরে একই দিনে ফিরে আসতে পারবেন। এ সময় সেখানে রাত কাটানোর অনুমতি নেই। ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসে রাত্রিযাপনের সুযোগ থাকলেও প্রতিদিন গড়ে সর্বোচ্চ দুই হাজার পর্যটকের সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। ফেব্রুয়ারি মাসে পর্যটকদের যাতায়াত বন্ধ রাখার বিধান রয়েছে। তবে এসব নিয়ম পুনর্বিবেচনার উদ্যোগ নেওয়ায় আগামী মৌসুমে পর্যটন ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আসে কি না, তা এখন দেখার বিষয়।
সভায় পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম পর্যটকদের ভ্রমণের অনুমতিপত্র ও বিশেষ সংকেতযুক্ত টিকিট অনুমোদিত ওয়েবসাইটের মাধ্যমে কেনার ওপর গুরুত্ব দেন। একই সঙ্গে দ্বীপে নিষিদ্ধ পলিথিন বহন বন্ধ করা, একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের ব্যবহার নিরুৎসাহিত করা এবং পর্যটকদের নিজেদের পানির পাত্র সঙ্গে রাখার আহ্বান জানান তিনি।
সেন্টমার্টিনের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞাগুলো অবশ্য বহাল থাকবে। সামুদ্রিক কাছিম, পাখি, প্রবালসহ বিভিন্ন প্রাণী ও প্রাকৃতিক সম্পদ সুরক্ষায় রাতে সৈকত ও আশপাশের এলাকায় আলো জ্বালানো, উচ্চ শব্দ সৃষ্টি এবং বারবিকিউ আয়োজনের ওপর বিধিনিষেধ রয়েছে। এ ছাড়া কেয়াবনে প্রবেশ, কেয়া ফল সংগ্রহ ও কেনাবেচা এবং সৈকতে মোটরসাইকেল বা এ ধরনের যানবাহন চালানোও নিষিদ্ধ।
সেন্টমার্টিন দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটনকেন্দ্র হলেও অতিরিক্ত পর্যটকের চাপ, বর্জ্য দূষণ এবং প্রাকৃতিক সম্পদের ক্ষতি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে উদ্বেগ রয়েছে। তাই পর্যটকদের সুযোগ বাড়ানো এবং দ্বীপের পরিবেশ সুরক্ষার মধ্যে ভারসাম্য রাখা সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। নতুন পর্যালোচনার পর পর্যটনের সময়সীমা, দৈনিক পর্যটকের সংখ্যা ও জাহাজ ছাড়ার স্থান নিয়ে কী সিদ্ধান্ত আসে, তা জানতে সংশ্লিষ্টদের পরবর্তী ঘোষণার অপেক্ষা করতে হবে।

