ন্যূনতম বেতন ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে রাজধানীর উত্তরা এলাকায় টানা তৃতীয় দিনের মতো সড়ক অবরোধ করেছেন পোশাক শ্রমিকেরা। আজ বুধবার সকালে আজমপুর এলাকায় সড়কে নেমে যান চলাচল বন্ধ করে দেন তাঁরা। পরে বিক্ষোভকারীরা বিমানবন্দরের দিকে সরে যান। এতে বিমানবন্দর সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।
পুলিশের উত্তরা ট্রাফিক বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) রুবেল হক জানান, কয়েকটি কারখানার শ্রমিকেরা বুধবার সকালে আজমপুর এলাকায় অবস্থান নিয়ে সড়ক বন্ধ করে দেন। পরে তাঁরা বিমানবন্দরের দিকে সরে গেলে ওই সড়কেও যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
উত্তরা ট্রাফিক বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) শাহজাহান হোসেন বলেন, ন্যূনতম বেতন ৩০ হাজার টাকা করাসহ কয়েকটি দাবিতে গত সোমবার থেকে সড়কে বিক্ষোভ করে আসছেন কিছু পোশাক কারখানার কর্মী। অর্থাৎ আন্দোলনটি এক দিনের নয়, টানা তিন দিন ধরে চলছে।
বিমানবন্দর সড়ক রাজধানীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথ। এই সড়ক বন্ধ থাকলে উত্তরা ও আশপাশের এলাকায় তীব্র যানজট তৈরি হয়। বিমানবন্দরগামী যাত্রী, অফিসগামী মানুষ ও পণ্যবাহী যানবাহন ভোগান্তিতে পড়তে পারে। তবে এই অবরোধে কতজন শ্রমিক অংশ নিয়েছেন, কোন কারখানাগুলোর শ্রমিকেরা যুক্ত এবং তাঁদের অন্য দাবিগুলো কী, সে বিষয়ে পুলিশের বক্তব্যে বিস্তারিত তথ্য নেই।
ন্যূনতম বেতন নিয়ে শ্রমিকদের এই অবস্থান শিল্পের মালিকপক্ষ, সরকার ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের জন্য একটি বড় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠতে পারে। জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ায় শ্রমিকেরা মজুরি বাড়ানোর দাবি তুলছেন, অন্যদিকে কারখানা মালিকদের সক্ষমতা, বৈশ্বিক ক্রেতাদের দাম ও প্রতিযোগিতার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখতে হয়। তাই শুধু সড়ক অবরোধ বা পুলিশি তৎপরতায় নয়, আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ খোঁজাই হবে বাস্তবসম্মত।
এখন নজর থাকবে আন্দোলনকারী শ্রমিকদের পরবর্তী কর্মসূচি এবং এ বিষয়ে সরকার ও মালিকপক্ষের প্রতিক্রিয়ার দিকে। আজ সড়ক কখন খুলবে এবং কোনো আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে কি না, তা এখনো জানা যায়নি।

