মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ায় বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত র্যালিতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নাম সংবলিত ব্যানার ব্যবহারের অভিযোগে এক স্কুলের প্রধান শিক্ষককে আটক করেছে পুলিশ। আটক হওয়া ব্যক্তি তিল্লি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল হাশেম ভূঁইয়া। পুলিশ ব্যানারটিও জব্দ করেছে। পুলিশের দাবি, তিনি কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের একটি ইউনিয়ন শাখার সহসভাপতি।
গত সোমবার (৫ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার তিল্লি বাজার এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, শিক্ষক দিবস উপলক্ষে বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের নিয়ে একটি র্যালির আয়োজন করেন প্রধান শিক্ষক। র্যালিটি বিদ্যালয় থেকে বের হয়ে তিল্লি বাজারের বিভিন্ন সড়ক ঘুরে আসে। এ সময় বহন করা ব্যানারে লেখা ছিল, ‘শিক্ষা নিয়ে গড়ব দেশ, শেখ হাসিনার বাংলাদেশ’।
র্যালি শেষে বিদ্যালয়ের মাঠে একটি আলোচনা সভাও অনুষ্ঠিত হয়। ব্যানারে শেখ হাসিনার নাম থাকার বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে এলে তাঁরা পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ব্যানারটি জব্দ করে এবং প্রধান শিক্ষককে থানায় নিয়ে যায়।
পুলিশ জানায়, ৪৮ বছর বয়সী আবুল হাশেম ভূঁইয়ার বাড়ি দৌলতপুর উপজেলার কুনিয়া ইউনিয়নে। তাঁকে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কুনিয়া ইউনিয়ন শাখার সহসভাপতি বলে দাবি করেছে পুলিশ।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, শিক্ষক দিবস উপলক্ষে র্যালি ও আলোচনা সভা আয়োজনে তাঁদের কোনো আপত্তি ছিল না। আপত্তির কারণ ছিল কেবল ব্যানারে শেখ হাসিনার নাম থাকা, আর সে কারণেই তাঁরা বিষয়টি পুলিশকে জানান।
সাটুরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোশাররফ হোসেন জানান, ঘটনাটি যাচাই-বাছাই করে আইনি প্রক্রিয়া শেষে প্রধান শিক্ষককে আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।
ঘটনাটি দেখিয়ে দিচ্ছে, কার্যক্রম নিষিদ্ধ একটি দলের নেতা বা সাবেক সরকারপ্রধানের নাম সংবলিত প্রচারণা নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে সংবেদনশীলতা কতটা তীব্র। একই সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের একটি সাধারণ অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক স্লোগান ব্যবহারের বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তবে প্রধান শিক্ষকের পক্ষের কোনো বক্তব্য প্রতিবেদনে নেই। ব্যানারের স্লোগান তাঁর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত ছিল কি না, এবং কোন ধারায় তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, তা-ও স্পষ্ট করা হয়নি। আওয়ামী লীগের পদে থাকার অভিযোগ পুলিশের দাবি, স্বতন্ত্রভাবে যাচাইয়ের সুযোগ আছে।
এখন নজর থাকবে প্রধান শিক্ষককে আদালতে হাজির করার পর মামলার অগ্রগতি ও তাঁর বক্তব্যের দিকে। সেই সঙ্গে বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটি ও শিক্ষা প্রশাসন তাঁর বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হবে।

