গাজীপুরের টঙ্গীর চেরাগ আলী এলাকায় ড্রাগ ইন্টারন্যাশনাল নামের একটি ওষুধ কারখানায় ভয়াবহ আগুন লেগেছে। ফায়ার সার্ভিসের ২১টি ইউনিট চার ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে পুরোপুরি নিভতে সময় লাগে প্রায় ১৩ ঘণ্টা। ফায়ার সার্ভিসের ধারণা, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট কিংবা যান্ত্রিক ত্রুটি থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে। এ ঘটনায় কারখানার কেউ হতাহত না হলেও ফায়ার সার্ভিসের তিন সদস্য আহত হয়েছেন।
ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বুধবার সকাল সোয়া ১০টার দিকে কারখানার ইউনিট-২-এ প্রথম আগুন দেখা যায়। মুহূর্তের মধ্যে আগুনের শিখা চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ২১টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তাদের সঙ্গে উদ্ধার ও নিয়ন্ত্রণ কাজে যোগ দেয় সেনাবাহিনী, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), পুলিশ ও স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। সম্মিলিত চেষ্টায় চার ঘণ্টা পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও কাজ শেষ হয়নি। ফায়ার সার্ভিসের বেশ কয়েকটি ইউনিট কারখানার ভেতরে ডাম্পিংয়ের কাজ চালিয়ে যায়। ডাম্পিং হলো পোড়া মালামাল সরিয়ে ও পানি ঢেলে ভেতরে লুকিয়ে থাকা আগুন পুরোপুরি নিভিয়ে ফেলার প্রক্রিয়া। এই কাজ চলে রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত। এরপর ফায়ার সার্ভিসের সব ইউনিট ঘটনাস্থল ছেড়ে যায়।
আগুনে কারখানার দুটি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে চতুর্থ ও দ্বিতীয় তলা বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে। পুড়ে গেছে রাসায়নিক, উৎপাদন যন্ত্রপাতিসহ নানা মালামাল। ক্ষয়ক্ষতির আর্থিক পরিমাণ এখনো জানা যায়নি। ঘটনার পর রাতেই পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কারখানার উৎপাদন কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।
বৃহস্পতিবার সকালে কারখানায় গিয়ে দেখা যায়, নিরাপত্তা কর্মী ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা মূল ফটক দিয়ে ভেতরে ঢুকলেও শ্রমিকদের প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। ফটকের সামনে জড়ো হওয়া গণমাধ্যমকর্মীদের কোনো তথ্যও দেননি কর্তৃপক্ষ। ফলে উৎপাদন কবে নাগাদ শুরু হবে, কতজন শ্রমিক এর আওতায় পড়ছেন, সে বিষয়ে কিছু জানা যায়নি।
টঙ্গী ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার শাহীন আলম বলেন, ডাম্পিং শেষ করে রাত সাড়ে ১০টার পর কর্মীরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেছেন। তাঁর ভাষ্য, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট বা যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে আগুন লেগে থাকতে পারে। তবে আগুনের প্রকৃত কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তদন্ত শেষেই নিশ্চিতভাবে বলা যাবে।
এখানে লক্ষণীয় বিষয় হলো, এটি এখনো কেবল প্রাথমিক ধারণা। তদন্ত প্রতিবেদন না আসা পর্যন্ত আগুনের কারণ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক হবে না।
ওষুধ কারখানায় সাধারণত নানা ধরনের রাসায়নিক মজুত থাকে। এসব পদার্থ আগুনের তীব্রতা বাড়াতে পারে এবং নেভানোর কাজও কঠিন করে তোলে। সম্ভবত এ কারণেই আগুন নিয়ন্ত্রণে চার ঘণ্টা ও পুরোপুরি নেভাতে প্রায় ১৩ ঘণ্টা সময় লেগেছে। এ ধরনের কারখানায় অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা, বৈদ্যুতিক সংযোগের নিয়মিত পরীক্ষা এবং রাসায়নিক মজুতের নিয়ম কতটা মানা হয়েছিল, তা তদন্তে খতিয়ে দেখা জরুরি।
আরেকটি দিক হলো ওষুধের সরবরাহ। কারখানাটি ঠিক কী ধরনের ওষুধ তৈরি করত, তা প্রকাশিত তথ্যে নেই। উৎপাদন বন্ধ থাকলে বাজারে এর প্রভাব পড়বে কি না, তা-ও এখনো স্পষ্ট নয়। বিষয়টি পরিষ্কার হলে সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগের কিছু আছে কি না, বোঝা যাবে। ঘটনার কারণ ও ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র জানতে এখন তদন্ত প্রতিবেদনের অপেক্ষা।

