বিশ্বব্যাপী হালাল পণ্যের বাজারে হালাল সার্টিফিকেশন বা সনদের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় রেখে হালাল সনদের সেই আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করতে চায় বাংলাদেশ। এ ক্ষেত্রে দেশের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে পারস্পরিক স্বীকৃতি অর্জনে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউটকে (বিএসটিআই) আরও উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) রাজধানীর অফিসার্স ক্লাবে ‘বিশ্ব মান দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় মন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক হালাল সনদের স্বীকৃতি ও সার্টিফিকেশনে যোগ্যতা অর্জনের ক্ষেত্রে বিএসটিআইকে সরকার সব ধরনের সহায়তা দেবে।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, মান শুধু পণ্যের গুণগত বৈশিষ্ট্য নয়। এটি মানুষের মর্যাদা ও নিরাপদ জীবনযাপনের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। এ কারণে খাদ্যপণ্যের বিশুদ্ধতা নিশ্চিত করাকে অগ্রাধিকারে রেখেছে সরকার। খাদ্যনিরাপত্তা ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় পন্যের মান সঠিক রাখতে বিএসটিআইয়ের কার্যক্রমকে আরও জোরদার করবে সরকার।
ভবন নির্মাণসামগ্রী থেকে শুরু করে খাদ্যপণ্য, জ্বালানি ও দৈনন্দিন ব্যবহার্য প্রতিটি পণ্যের মান নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ভোক্তারা অর্থ ব্যয় করে যে পণ্য কিনবেন, তার গুণগত মান সম্পর্কে তাদের আস্থা ও নিরাপত্তাবোধ থাকতে হবে।
পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণকারী এ প্রতিষ্ঠানটির সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়ে মন্ত্রী জানান, ৮৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে ১৩ তলাবিশিষ্ট নতুন একটি কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণসহ ৬৩টি নতুন পরীক্ষাগার স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এ ছাড়া নতুন করে ১০টি জেলায় পরীক্ষাগার স্থাপন এবং প্রায় ৪৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি মেট্রোলজি ল্যাবরেটরি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সয়াবিন তেলে ভারী ধাতু নিয়ে অপপ্রচার। সয়াবিন তেলে ভারী ধাতু ও সিসার উপস্থিতি নিয়ে সম্প্রতি গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদকে অপপ্রচার উল্লেখ করে শিল্পমন্ত্রী বলেন, দেশের বাজারে থাকা বিভিন্ন ব্র্যান্ডের সয়াবিন তেলের ১৯৩টি নমুনা পরীক্ষায় কোনো ক্ষতিকর ধাতু বা লেড পাওয়া যায়নি। বাজারে যেসব সয়াবিন তেল আছে, সেগুলো সম্পূর্ণ বিশুদ্ধ দাবি করে তিনি বলেন, পণ্যের মান নিয়ে বিভ্রান্তি দূর করতে নির্ভরযোগ্য পরীক্ষা ও তথ্য প্রকাশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বিএসটিআইয়ের মহাপরিচালক কাজী ইমদাদুল হকের সভাপতিত্বে সভায় শিল্প সচিব আব্দুন নাসের খান, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক অধ্যাপক ড. এস এম আব্দুল আওয়াল, এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক মো. ফজলুল হক, বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন বোর্ডের (বিএবি) মহাপরিচালক মোহা. আমিনুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

