দেশে ধীরে ধীরে বদলাতে শুরু করতে পারে আবহাওয়ার ধরন। অক্টোবরের গরম কাটিয়ে নভেম্বরের মাঝামাঝি থেকে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শীতের অনুভূতি বাড়তে পারে। বিশেষ করে নভেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহ নাগাদ ঢাকায় শীতের আমেজ স্পষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। শীতের মৌসুমে রাজধানীর তাপমাত্রা নেমে আসতে পারে ১১ থেকে ১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের কর্মকর্তা এ কে এম নাজমুল হকের বরাত দিয়ে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। গত চার থেকে পাঁচ বছরের আবহাওয়ার ধরন বিশ্লেষণ করে ধারণা করা হচ্ছে, এবার ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত শীতের প্রভাব থাকতে পারে।
আবহাওয়াসংশ্লিষ্টদের ধারণা, দেশের সব অঞ্চলে একই সময়ে শীতের অনুভূতি তৈরি হবে না। উত্তর-পূর্ব ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের কিছু এলাকায় নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহেই শীতের আমেজ দেখা দিতে পারে। অন্যদিকে ঘনবসতিপূর্ণ রাজধানী ঢাকায় শীতের অনুভূতি স্পষ্ট হতে নভেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের কর্মকর্তা এ কে এম নাজমুল হক জানিয়েছেন, ঢাকায় ইতিমধ্যে উত্তর দিক থেকে বাতাস প্রবাহিত হতে শুরু করেছে। সাধারণত উত্তর দিকের বাতাস আবহাওয়াকে শীতল করার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখে। তবে রাজধানীর ঘনবসতি ও নগরায়ণের কারণে এখানে তাপমাত্রার পরিবর্তন এবং শীতের অনুভূতি দেশের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় ভিন্ন হতে পারে।
শীতের তীব্রতা বাড়তে পারে ডিসেম্বরের শেষভাগ থেকে। জানুয়ারি মাসজুড়ে ঠান্ডার প্রভাব বেশি থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এমনকি ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত শীতল আবহাওয়া অব্যাহত থাকতে পারে। এরপর ধীরে ধীরে দিনের তাপমাত্রা বাড়তে শুরু করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
দেশের উত্তরাঞ্চলে ইতিমধ্যে তাপমাত্রা কমতে শুরু করার আভাস পাওয়া যাচ্ছে। বিশেষ করে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় রাতের তাপমাত্রা তুলনামূলক কম থাকায় সেখানে শীতের আগমনী অনুভূতি তৈরি হচ্ছে। তবে রাজধানী ঢাকায় এখনো দিনের গরমের প্রভাব থাকায় শীতের পূর্ণ অনুভূতি পেতে আরও কিছুটা সময় লাগতে পারে।
সব মিলিয়ে, নভেম্বরের মাঝামাঝি থেকে শীতের প্রভাব বাড়তে শুরু করলেও ডিসেম্বরের শেষভাগ ও জানুয়ারিতে ঠান্ডা বেশি অনুভূত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে আবহাওয়ার প্রকৃত পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাপমাত্রা, বাতাসের প্রবাহ এবং সামগ্রিক আবহাওয়াগত অবস্থার ওপর। তাই শীতের আগমন ও তীব্রতা সম্পর্কে আরও নির্ভরযোগ্য ধারণা পেতে আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরবর্তী পূর্বাভাসের দিকে নজর রাখা প্রয়োজন।

