কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া সীমান্তে অজান্তে ভারতের ভূখণ্ডে ঢুকে পড়া দুই পুলিশ সদস্যকে প্রায় ১৫ ঘণ্টা পর ফেরত দিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। আজ শুক্রবার দুপুরে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে তাঁদের বাংলাদেশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। বিজিবির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। ফেরত আসা দুজন হলেন ব্রাহ্মণপাড়া থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) ইমরান হোসেন ও কনস্টেবল রোহিত দেওয়ান।
বিজিবি জানায়, আজ দুপুর আনুমানিক দেড়টায় ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার শশীদল সীমান্তে ব্যাটালিয়ন কমান্ডার পর্যায়ের পতাকা বৈঠক হয়। এর পরই দুই পুলিশ সদস্যকে হস্তান্তর করা হয়। ব্রাহ্মণপাড়া থানার ওসি ফারুক হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সুলতানপুর ব্যাটালিয়নের (৬০ বিজিবি) শশীদল বিওপির কোম্পানি কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম শরিফুল ইসলাম, দেবিদ্বার সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার শাহিন, ব্রাহ্মণপাড়া থানার ওসি ফারুক হোসেন এবং শশীদল বিওপির কমান্ডার সুবেদার মোহাম্মদ তাকবীর হোসেন।
পুলিশ সূত্র জানায়, গতকাল বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে শশীদল ইউনিয়নের আশাবাড়ি এলাকায় ২০৫৯ নম্বর সীমান্ত পিলারের কাছে মাদক উদ্ধার অভিযানে যায় পুলিশের একটি দল। এক মাদক কারবারিকে ধাওয়া করতে গিয়ে কনস্টেবল রোহিত দেওয়ান অজান্তে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতের ভেতরে চলে যান। পরে ভারতীয় কয়েকজন বাসিন্দা তাঁকে আটক করে বিএসএফের হাতে তুলে দেন। সহকর্মীকে ছাড়িয়ে আনতে গেলে এএসআই ইমরান হোসেনকেও আটক করা হয়। এরপর দুই পুলিশ সদস্যকে ফিরিয়ে আনতে পুলিশ ও বিজিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেন।
এর আগে আজ বেলা সাড়ে ১১টায় রাজধানীর পিলখানায় বিজিবি সদর দপ্তরে সংবাদ সম্মেলন করেন বিজিবির পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মাহবুব মুর্শেদ রহমান। তিনি জানান, বিএসএফের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ হয়েছে। দুই পুলিশ সদস্য অক্ষত আছেন বলেও তিনি জানিয়েছিলেন।
ঘটনাটি আবারও দেখাল, সীমান্তে অভিযান চালানোর সময় সামান্য অসতর্কতাও বড় কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা জটিলতা তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে মাদক কারবারিকে ধাওয়ার মতো দ্রুত পরিস্থিতিতে সীমান্ত পিলারের অবস্থান বোঝা কঠিন হয়ে পড়ে। তবে এ ক্ষেত্রে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে দ্রুত সমাধান হওয়ায় বিষয়টি বড় আকার নেয়নি। প্রতিবেদনে পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে আটক থাকা অবস্থায় কেমন আচরণ করা হয়েছে বা তাঁদের বিরুদ্ধে ভারতের পক্ষ থেকে কোনো আইনি পদক্ষেপের কথা বলা হয়েছিল কি না, তা উল্লেখ নেই। এখন নজর থাকবে সীমান্তে এমন ঘটনা এড়াতে বিজিবি ও পুলিশ কী ধরনের সমন্বয় ও সতর্কতা নেয়, তার দিকে।

