ব্যস্ত নগরজীবন থেকে একটু বিরতি নিয়ে নদীর হাওয়া, সবুজ প্রান্তর আর খোলা আকাশের নিচে সময় কাটাতে চাইলে দূরে যেতে হবে না। রাজধানী ঢাকার কাছেই নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে মেঘনা নদীর বুকে জেগে আছে মায়াদ্বীপ নামের একটি মনোরম চর। পরিবার, বন্ধু বা প্রিয়জনকে নিয়ে এক দিনের ছোট ভ্রমণের জন্য জায়গাটি হতে পারে একটি সহজ বিকল্প। পূজার টানা ছুটির আগে-পরে অনেকেই এমন কাছের গন্তব্য খুঁজবেন, সেদিক থেকেও এটি আলোচনায় আসতে পারে।
নদীর বুকে জেগে ওঠা এই চরটির আকৃতি ত্রিভুজের মতো। চারদিকে নদীর জল, মৃদু বাতাস আর বিস্তীর্ণ আকাশ। সবুজ প্রান্তর ও খোলামেলা পরিবেশই এর পরিচয়। যাঁরা নদী ও প্রকৃতি ভালোবাসেন, তাঁদের কাছে শহরের কোলাহল থেকে দূরে সময় কাটানোর এই জায়গা বেশ আকর্ষণীয় মনে হতে পারে।
মায়াদ্বীপের মূল আকর্ষণ এর প্রাকৃতিক পরিবেশ। সেখানে গেলে নদীর ঢেউ দেখা, খোলা প্রান্তরে হাঁটা কিংবা বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিয়ে সময় কাটানোর সুযোগ মেলে। প্রকৃতিনির্ভর ছবি ও ভিডিও তৈরির জন্যও জায়গাটি উপযোগী। তবে চরটি নদীর পানির স্তর, আবহাওয়া ও মৌসুমি পরিবর্তনের ওপর নির্ভরশীল। তাই যাওয়ার আগে সেখানকার বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজ নেওয়া ভালো।
ঢাকা থেকে যাতায়াত তুলনামূলক সহজ। গুলিস্তান থেকে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের উদ্দেশে বিভিন্ন কোম্পানির বাস ছেড়ে যায়, ভাড়া ৬০ থেকে ৮০ টাকা। বাস থেকে নেমে মোগড়াপাড়া চৌরাস্তা থেকে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা বা সিএনজিতে বৈদ্যের বাজার নৌকাঘাটে যেতে হয়। সেখান থেকে সারা দিনের জন্য নৌকা ভাড়া করে চরে যাওয়া যায়। নৌকার ভাড়া পড়ে ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা। অর্থাৎ কয়েকজন মিলে গেলে মাথাপিছু খরচ আরও কমে আসবে।
খাবারের বিষয়ে আগেভাগে প্রস্তুতি রাখা ভালো। বৈদ্যের বাজার এলাকায় ঘাটের আশপাশে সাধারণ মানের খাবারের দোকান পাওয়া যায়। চরে খাবার বা পানির দোকান সব সময় নাও মিলতে পারে। তাই শুকনো খাবার, পর্যাপ্ত পানির বোতল এবং ব্যবহৃত আবর্জনা রাখার জন্য একটি ব্যাগ সঙ্গে রাখা সুবিধাজনক। এতে প্রকৃতিও পরিচ্ছন্ন থাকবে।
সময়ের পরিকল্পনাও গুরুত্বপূর্ণ। দিনের আলো থাকতেই চর ঘুরে দেখে সন্ধ্যার আগে বৈদ্যের বাজার ঘাটে ফিরে আসা উচিত। চরে সন্ধ্যার পর অবস্থান না করাই নিরাপদ। ফেরার জন্য হাতে পর্যাপ্ত সময় রেখে সকাল সকাল রওনা দিলে ভ্রমণ আরামদায়ক হবে।
সব মিলিয়ে সঠিক পরিকল্পনা ও নিরাপত্তার দিকে নজর রাখলে নারায়ণগঞ্জের এই ছোট ভ্রমণ আনন্দময় স্মৃতি হয়ে থাকতে পারে। তবে নদীপথের ভ্রমণে আবহাওয়া ও নৌকার নিরাপত্তা আগে যাচাই করে নেওয়া জরুরি। লাইফ জ্যাকেটের ব্যবস্থা আছে কি না, তা মাঝির কাছে জেনে নেওয়াও ভালো। এ বিষয়ে মূল প্রতিবেদনে বিস্তারিত বলা হয়নি।

