আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটার তালিকা চূড়ান্ত করার নতুন সময়সূচি নির্ধারণ করেছে নির্বাচন কমিশন। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ৫ নভেম্বর সারা দেশে খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে। আর চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ২৫ নভেম্বর। ভোটার এলাকার ঠিকানা পরিবর্তন করতে চাইলে ৩১ অক্টোবরের মধ্যে আবেদন করতে হবে।
শনিবার, ১৭ অক্টোবর, পৃথক চিঠির মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের নতুন সময়সূচির বিষয়টি জানিয়েছে। কমিশনের এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আয়োজনের আগে ভোটার তালিকা প্রস্তুতের কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করা।
নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, আগামী ২১ জানুয়ারি প্রথম ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এবারের নির্বাচন পাঁচ ধাপে আয়োজনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রথম ধাপের নির্বাচনের তফসিল আগামী ডিসেম্বরে ঘোষণা করা হতে পারে। এ কারণে নভেম্বরের মধ্যেই চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের প্রস্তুতি নিচ্ছে কমিশন।
নতুন সময়সূচি অনুযায়ী, ৫ নভেম্বর খসড়া তালিকা প্রকাশের পর তাতে কোনো ভুল বা আপত্তি থাকলে ২০ নভেম্বরের মধ্যে তা জানাতে পারবেন সংশ্লিষ্টরা। জমা পড়া দাবি ও আপত্তি যাচাই-বাছাই করে ২৪ নভেম্বরের মধ্যে নিষ্পত্তি করা হবে। এরপর ২৫ নভেম্বর প্রকাশ করা হবে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা।
এবার নতুন ভোটার হিসেবে নিবন্ধনের ক্ষেত্রেও জন্মতারিখের একটি নির্দিষ্ট সীমা উল্লেখ করেছে নির্বাচন কমিশন। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের পাঠানো নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যাঁদের জন্ম ২০০৮ সালের ৩১ অক্টোবর অথবা তার আগে, তাঁরা নতুন ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত হতে পারবেন।
এদিকে ভোটার এলাকার ঠিকানা পরিবর্তন করতে আগ্রহীদের জন্য আবেদনের শেষ সময় ৩১ অক্টোবর নির্ধারণ করা হয়েছে। এসব আবেদন ৫ নভেম্বরের মধ্যে নিষ্পত্তি করার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
এর আগে সেপ্টেম্বরে ভোটার এলাকা পরিবর্তনের আবেদন গ্রহণের সময় শেষ হয়েছিল। সে সময় নভেম্বরের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা ছিল নির্বাচন কমিশনের। তবে নির্বাচনের সময়সূচিতে পরিবর্তন আসায় ভোটার তালিকা চূড়ান্ত করার সময়ও নতুন করে নির্ধারণ করা হয়েছে।
নির্বাচন সামনে রেখে ভোটারদের জন্য এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ঠিকানা পরিবর্তনের আবেদন করা এবং খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের পর নিজের তথ্য যাচাই করা। তালিকায় কোনো ভুল থাকলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আপত্তি জানানো প্রয়োজন, যাতে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের আগেই প্রয়োজনীয় সংশোধন সম্পন্ন করা যায়।

