ফ্যামিলি কার্ড চালুর কারণে দেশে তালাক বন্ধ হয়েছে বলে দাবি করেছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি। শনিবার বরগুনা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে আইনশৃঙ্খলা বিষয়ে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন। একই সভায় সরকারের ভালো কাজগুলো বারবার মনে করিয়ে দেওয়ার জন্য গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। তবে তালাক কমে যাওয়ার এই দাবির পক্ষে সভায় কোনো পরিসংখ্যান বা তথ্য উপস্থাপনের কথা জানা যায়নি।
সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রসঙ্গ টেনে চিফ হুইপ বলেন, প্রধানমন্ত্রী মায়েদের হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দিয়ে তাঁদের শক্তিশালী করেছেন। কার্ডটি হবে মায়েদের নামে, ফলে এর সুফলও ভোগ করবেন মায়েরাই। তাঁর ভাষ্য, আগে দুই সন্তানসহ স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার যে সুযোগ ছিল, এখন তা আর নেই। তিনি বলেন, স্বামীকে এখন ভাত খেতে হলে স্ত্রীর কাছেই আসতে হবে। এই কাজটি করেছেন প্রধানমন্ত্রী।
নিজের বক্তব্যের শেষে তিনি উপস্থিত সাংবাদিকদের উদ্দেশে প্রশ্ন রাখেন, এটি ভালো কাজ নাকি মন্দ কাজ। তাঁর অনুরোধ, কাজটি ভালো মনে হলে যেন বড় করে লেখা হয়। সরকারের ভালো কাজগুলো বারবার মনে করিয়ে দেওয়ার আহ্বানও জানান তিনি।
বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন চিফ হুইপ। তিনি দাবি করেন, ভারতের আদানি গ্রুপের কোম্পানির সঙ্গে যে চুক্তি হয়েছে, সেই অর্থ দিয়ে দেশে পাঁচটি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা যেত। তাঁর অভিযোগ, বর্তমান সরকারকে বিপাকে ফেলতে একটি চক্র জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট তৈরি করেছিল। অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ বা নির্দিষ্ট চক্রের নাম তিনি উল্লেখ করেননি বলে জানা গেছে।
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নিয়েও বক্তব্য রাখেন তিনি। চিফ হুইপের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীর স্পষ্ট বার্তা হলো বাংলাদেশে কোনো সংখ্যালঘু নেই। ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার, এই নীতিতেই এখন দেশ চলছে। এ সময় তিনি দাবি করেন, গত দুই বছরে দেশে কোনো প্রতিমা বা মূর্তি ভাঙার রেকর্ড নেই।
বরগুনার আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক এই সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বরগুনা-১ আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা মাহমুদুল হোসাইন অলিউল্লাহ, জেলা প্রশাসক তাসলিমা আক্তার ও পুলিশ সুপার কুদরত খুদা। ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক ও বরগুনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম মোল্লাও।
সভা শেষে বেলা একটার দিকে চিফ হুইপ বরগুনার ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় অংশ নেন। সেখানে তিনি হাসপাতালের জনবলসংকট নিরসনের প্রতিশ্রুতি দেন। পরে বরগুনা পৌর এলাকার কড়ইতলা খাল খনন কাজের উদ্বোধন করেন তিনি।
চিফ হুইপের এই বক্তব্য ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই কিছু প্রশ্ন উঠতে পারে। তালাকের হার কমেছে কি না, তা যাচাই করতে হলে বিবাহবিচ্ছেদের সরকারি হালনাগাদ তথ্য প্রয়োজন। পারিবারিক সম্পর্ক ভাঙার পেছনে অর্থনৈতিক নির্ভরশীলতা ছাড়াও সামাজিক ও ব্যক্তিগত নানা কারণ থাকে। তাই একটি সহায়তা কর্মসূচির সঙ্গে সরাসরি তালাক বন্ধের সম্পর্ক টানার দাবি বিশ্লেষক ও সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনার জন্ম দিতে পারে। একইভাবে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট এবং আদানির চুক্তি নিয়ে তোলা অভিযোগ নিয়েও তথ্যভিত্তিক ব্যাখ্যা প্রত্যাশিত।
সব মিলিয়ে বরগুনার এই সভা আইনশৃঙ্খলা আলোচনার পাশাপাশি সরকারের কর্মসূচি, বিদ্যুৎ খাত ও সম্প্রীতি নিয়ে চিফ হুইপের বক্তব্যের কারণে সামনে এসেছে। এখন দেখার বিষয়, তাঁর করা দাবিগুলোর সমর্থনে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা সংস্থা কোনো তথ্য প্রকাশ করে কি না।

