কক্সবাজারের মেরিনড্রাইভে টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে ১০ পর্যটকের মৃত্যুর ঘটনায় মামলা হয়েছে। রিসোর্টের মালিক তানভীর ও ম্যানেজার সুমনসহ কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। শনিবার, ১৭ অক্টোবর রাতে উখিয়া থানায় মামলাটি দায়ের হয়। ম্যানেজার সুমনকে ইতিমধ্যে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। আজ রোববার তাঁকে আদালতে হাজির করার কথা।
উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বা ওসি আতিকুর রহমান মজুমদার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তাঁর তথ্য অনুযায়ী, থানার একজন উপপরিদর্শক বাদী হয়ে মামলা করেছেন। অর্থাৎ ঘটনায় নিহত কোনো পর্যটকের স্বজন নন, বরং পুলিশ নিজেই রাষ্ট্রের পক্ষে মামলার উদ্যোগ নিয়েছে।
ওসি জানান, সুমনকে শনিবার বিকেলে আটক করা হয়েছিল। রাতে মামলা দায়েরের পর তাঁকে সেই মামলায় আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। মামলার বাকি আসামিদের ধরতে পুলিশের অভিযান চলছে। মালিক তানভীর গ্রেপ্তার হয়েছেন কি না, সে বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে এখনো কিছু জানানো হয়নি।
ঘটনার কারণ খুঁজতে জেলা প্রশাসনও আলাদাভাবে তদন্ত শুরু করেছে। এ জন্য পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি অগ্নিকাণ্ডের রহস্য উন্মোচনে কাজ করছে। আগুন কীভাবে লাগল, রিসোর্টে অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা কেমন ছিল এবং জরুরি নির্গমনের পথ ছিল কি না, এসব প্রশ্নের উত্তর তদন্তে স্পষ্ট হওয়ার কথা। এখন পর্যন্ত এসব বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
এক রিসোর্টে একসঙ্গে ১০ পর্যটকের প্রাণহানি পর্যটন খাতের নিরাপত্তা-ব্যবস্থা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে। মেরিনড্রাইভ এলাকায় গড়ে ওঠা অনেক অবকাঠামোর অনুমোদন, নকশা ও অগ্নিনিরাপত্তা মান নিয়মিত তদারকির আওতায় আছে কি না, সেই আলোচনাও নতুন করে সামনে এসেছে। মালিক ও ব্যবস্থাপককে আসামি করার মাধ্যমে মামলায় রিসোর্ট কর্তৃপক্ষের দায় খতিয়ে দেখার পথ খুলেছে। তবে প্রকৃত দায় কার এবং কতটুকু, তা নির্ভর করবে তদন্তের ফলাফলের ওপর।
এখন নজর থাকবে সুমনকে আদালতে হাজির করার পর রিমান্ড বা জামিন-সংক্রান্ত আদেশের দিকে, বাকি আসামিদের গ্রেপ্তার হয় কি না, সেদিকে এবং জেলা প্রশাসনের তদন্ত কমিটি কত দ্রুত প্রতিবেদন দেয় তার দিকে।

