বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বিশিষ্ট চিত্রশিল্পী ও কবি সুফিয়া কামালের মেয়ে সাঈদা কামাল আর নেই। রোববার সকাল সাড়ে সাতটার দিকে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৪ বছর।
সাঈদা কামাল কবি সুফিয়া কামালের মেয়ে। তিনি সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ‘আমরাই পারি’র চেয়ারপারসন সুলতানা কামালের ছোট বোন।
পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিউমোনিয়া ও কিডনিসংক্রান্ত জটিলতায় আক্রান্ত হয়ে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। গতকাল শনিবার তাঁকে রাজধানীর একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে শনিবার রাত থেকে তাঁকে জীবনরক্ষাকারী ব্যবস্থার সহায়তায় রাখা হয়েছিল।
সাঈদা কামালের মরদেহ রাজধানীর বারডেম হাসপাতালের হিমঘরে রাখা হয়েছে। তাঁর একমাত্র মেয়ে যুক্তরাজ্য থেকে দেশে ফেরার পর আগামী মঙ্গলবার রাজধানীর আজিমপুর কবরস্থানে তাঁকে দাফন করার কথা রয়েছে।
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় সাঈদা কামাল তাঁর বড় বোন সুলতানা কামালের সঙ্গে রণাঙ্গনে বাংলাদেশ ফিল্ড হাসপাতালে কাজ করেছিলেন। যুদ্ধের সময় তাঁর এই অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়কের বিশেষ প্রশংসাপত্র লাভ করেন।
মুক্তিযুদ্ধের কঠিন সময়ে আহত ও অসুস্থ মানুষের সেবায় যুক্ত থাকার অভিজ্ঞতা তাঁর জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে রয়েছে। শিল্পচর্চার পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধে তাঁর ভূমিকার জন্যও তিনি স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।
সাঈদা কামাল দেশের চারুশিল্পের জগতে নিজের সৃজনশীল কাজের মাধ্যমে অবদান রেখেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগে পড়াশোনা শেষে তিনি ভারতের শান্তিনিকেতনের কলাভবনে নকশা বিষয়ে প্রশিক্ষণ নেন।
তাঁর শিল্পকর্ম নিয়ে দেশে ও বিদেশে বহু একক ও যৌথ চিত্রপ্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে। শিল্পচর্চার মধ্য দিয়ে তিনি দেশের চারুশিল্পের অঙ্গনে পরিচিতি অর্জন করেন।
মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ, মানুষের সেবায় কাজ এবং শিল্পের প্রতি নিবেদন—সাঈদা কামালের জীবনের এই বিভিন্ন অধ্যায় তাঁকে আলাদা পরিচিতি দিয়েছে। তাঁর মৃত্যুতে পরিবার, স্বজন ও শিল্পাঙ্গনে শোকের আবহ তৈরি হয়েছে।

