সৌদি আরবের রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলার পর নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগে বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে বিমান চলাচলে বিঘ্ন অব্যাহত রয়েছে। টানা নবম দিনের মতো রোববারও সরাসরি ও যাত্রাবিরতিসহ বিভিন্ন ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন সৌদি আরবে কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে যাওয়া এবং ছুটি শেষে কাজে ফেরার অপেক্ষায় থাকা প্রবাসীরা।
বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের রোববার সন্ধ্যার বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ১০ অক্টোবর থেকে রোববার সন্ধ্যা পর্যন্ত বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে মোট ১১৮টি সরাসরি ও যাত্রাবিরতিসহ ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ১৮ হাজার ৩৬২ জন যাত্রী।বাতিল হওয়া ফ্লাইটের মধ্যে ৫২টি সরাসরি এবং ৬৬টি যাত্রাবিরতিসহ পরিচালিত হওয়ার কথা ছিল।
বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের জাতীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস সৌদি আরবগামী ১৯টি সরাসরি ফ্লাইট বাতিল করেছে। ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস বাতিল করেছে ১০টি ফ্লাইট।
সৌদি আরবের বিমান সংস্থা সৌদিয়া ১৩টি এবং রিয়াদ এয়ার ১০টি সরাসরি ফ্লাইট বাতিল করেছে।
যাত্রাবিরতিসহ পরিচালিত ফ্লাইটগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বাতিল করেছে ভারতের ইন্ডিগো—২৩টি। এ ছাড়া এমিরেটস ১৪টি, কাতার এয়ারওয়েজ ৯টি, সালামএয়ার ৭টি, ফ্লাইদুবাই ও এয়ার ইন্ডিয়া ছয়টি করে এবং ইজিপ্টএয়ার একটি ফ্লাইট বাতিল করেছে।
নিরাপত্তা পরিস্থিতির কথা বিবেচনায় নিয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ঢাকা থেকে রিয়াদগামী সব ফ্লাইটের স্থগিতাদেশ অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়িয়েছে। একই সঙ্গে ঢাকা-দাম্মাম রুটের ফ্লাইট ২০ অক্টোবর পর্যন্ত বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২১ অক্টোবর থেকে এই রুটে আবার ফ্লাইট চালুর কথা রয়েছে।
ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসও রিয়াদ রুটের সব ফ্লাইট ২১ অক্টোবর পর্যন্ত স্থগিত করেছে। তবে এই বিমান সংস্থার দাম্মাম রুটে কোনো ফ্লাইট নেই।
অন্যদিকে, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের জেদ্দা ও মদিনাগামী ফ্লাইট স্বাভাবিকভাবে চলাচল করছে। যাত্রীদের সুবিধার জন্য মদিনা রুটে বেশি যাত্রী বহনে সক্ষম উড়োজাহাজ ব্যবহার করা হয়েছে। রোববার পর্যন্ত এ ব্যবস্থা অব্যাহত ছিল। বিমান বাংলাদেশ জানিয়েছে, ১৯ অক্টোবর থেকে এই রুটে আগের মতো বোয়িং ৭৮৭ উড়োজাহাজ পরিচালনা করা হবে।
গত ১০ অক্টোবর রিয়াদ বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর সৌদি আরবগামী বাংলাদেশি কর্মী এবং দেশে ছুটি কাটিয়ে কর্মস্থলে ফেরার অপেক্ষায় থাকা প্রবাসীরা অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন। ফ্লাইট বাতিল ও স্থগিতাদেশের কারণে তাঁদের যাত্রার সময়সূচি নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১০ অক্টোবরের হুথি হামলায় দুই বাংলাদেশি নিহত হন। এ ছাড়া প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় আহত বাংলাদেশিদের একটি তালিকা প্রকাশ করেছে। তালিকায় রয়েছেন ১১ জন অভিবাসী কর্মী এবং ওমরাহ ভিসায় সৌদি আরবে যাওয়া ১৩ জন ব্যক্তি।
ফ্লাইট চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার নির্দিষ্ট সময় নিশ্চিত না হওয়ায় সৌদি আরবগামী যাত্রীদের দুর্ভোগ অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে যাত্রার অপেক্ষায় থাকা ব্যক্তিদের জন্য এই পরিস্থিতি বাড়তি উদ্বেগ তৈরি করেছে।

