ঢাকার গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরানো ও যানজট কমানোর লক্ষ্যে ‘এক রুট, এক কোম্পানি’ পদ্ধতিতে বাস পরিচালনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ পরিকল্পনার আওতায় আগামী ১ নভেম্বর থেকে রাজধানীর ছয়টি প্রধান রুটে পরীক্ষামূলকভাবে বাস চলাচল শুরু হবে।
রোববার ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) আয়োজনে এক সভায় বাসের রুট, পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান, বাসের সংখ্যা ও স্টপেজ নিয়ে আলোচনা হয়। ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) তথ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক পর্যায়ে পাঁচটি শীতাতপনিয়ন্ত্রিত নয় এমন রুট এবং একটি শীতাতপনিয়ন্ত্রিত রুটে কার্যক্রম শুরু হবে। দুই মাস পর আরও তিনটি বৃত্তাকার রুট যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
ডিটিসিএর উপপরিবহন পরিকল্পনাবিদ ধ্রুব আলম জানিয়েছেন, শিগগিরই এ কার্যক্রম বাস্তবায়নের কাজ শুরু হবে। প্রথম পর্যায়ের জন্য প্রস্তাবিত ৩২টি প্রধান রুটের মধ্যে ছয়টি এবং ২৫টি বৃত্তাকার রুটের মধ্যে পাঁচটি রুট চিহ্নিত করা হয়েছে।
কোন ছয় রুটে চলবে বাস?
প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত ছয়টি প্রধান রুট হলো—
১. গাজীপুর–ঢাকেশ্বরী মন্দির
২. গাবতলী–ডেমরা
৩. দুয়ারীপাড়া–সদরঘাট
৪. ঘাটারচর–ডেমরা
৫. ঘাটারচর–কাঁচপুর
৬. মিরপুর-১২–মাওয়া
গাজীপুর–ঢাকেশ্বরী মন্দির রুটের বাস শিববাড়ী থেকে টঙ্গী, বিমানবন্দর, মহাখালী ও নিউমার্কেট হয়ে চলবে। এ রুটে বিকাশ পরিবহন, বিকাশ সেবা ট্রান্সপোর্ট ও ডিভাইস পরিবহনকে যৌথভাবে একটি কোম্পানি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গাবতলী–ডেমরা রুটের বাস শ্যামলী, মহাখালী, গুলশান-১ ও রামপুরা হয়ে চলাচল করবে। এ রুটে আলিফ এন্টারপ্রাইজ, বৈশাখী পরিবহন ও রইছ পরিবহনকে যৌথভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করতে বলা হয়েছে।
দুয়ারীপাড়া–সদরঘাট রুটে বাস চলবে শ্যামলী, সায়েন্সল্যাব ও আজিমপুর হয়ে। এ রুটে দিশারী পরিবহন, তানজিল পরিবহন, মেট্রো লিংক ও ট্রান্সসিলভা সমন্বিতভাবে বাস পরিচালনা করবে। কাঁচপুর পর্যন্ত সম্প্রসারণের প্রস্তাব থাকা ১৬ নম্বর রুটের ব্যবস্থাপনাও এর সঙ্গে যুক্ত থাকবে।
ঘাটারচর–ডেমরা রুটের বাস মোহাম্মদপুর, শাহবাগ ও রামপুরা হয়ে চলবে। অন্যদিকে ঘাটারচর–কাঁচপুর রুটের বাস শাহবাগ, পল্টন ও সাইনবোর্ড হয়ে কাঁচপুরে যাবে। রমজান পরিবহন, মালঞ্চ পরিবহন, মিডলাইন পরিবহন ও রজনীগন্ধা পরিবহনকে এ দুই রুটে সমন্বিতভাবে বাস পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
মিরপুর-১২–মাওয়া রুটে বাস চলবে ফার্মগেট, শাহবাগ, গুলিস্তান ও কেরানীগঞ্জ হয়ে। এ রুটে স্বাধীন পরিবহন, বিহঙ্গ পরিবহন, বিকল্প পরিবহন ও শিকড় পরিবহনকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
নতুন বাসব্যবস্থা কার্যকর করতে বাসস্টপ চিহ্নিত করা এবং টিকিট কাউন্টার স্থাপনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ডিএমপি ও দুই সিটি করপোরেশনকে। পাশাপাশি ফুটপাতের অবৈধ দখল উচ্ছেদ এবং অনুমোদনহীন ব্যাটারিচালিত রিকশা সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া ১৮ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত পুলিশের সহায়তায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ডিটিসিএ।
উদ্যোগটির লক্ষ্য হলো নির্দিষ্ট রুটে বাস পরিচালনা সমন্বিত করা এবং সড়কে বিশৃঙ্খলা কমানো। তবে পরীক্ষামূলক কার্যক্রমে বাসের সংখ্যা, চলাচলের সময়সূচি ও যাত্রীসেবার বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

