সুন্দরবনসংলগ্ন এলাকায় তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) টার্মিনাল নির্মাণের পরিকল্পনা করছে সরকার। জ্বালানি সরবরাহের সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগের অংশ হিসেবে এ পরিকল্পনা নেওয়া হলেও সুন্দরবনের পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও প্রতিবেশব্যবস্থার ওপর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
দৈনিক সমকালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সুন্দরবনের কাছাকাছি এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের সম্ভাব্য স্থান নিয়ে আলোচনা চলছে। প্রস্তাবিত এলাকার পরিবেশগত সংবেদনশীলতা এবং বন ও জলজ প্রাণীর ওপর সম্ভাব্য প্রভাব বিবেচনায় নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সুন্দরবনসংলগ্ন এলাকায় জ্বালানি অবকাঠামো নির্মাণের পরিকল্পনা নতুন নয়। অতীতেও এ ধরনের উদ্যোগ নিয়ে পরিবেশগত ঝুঁকি ও বন সংরক্ষণের প্রশ্ন উঠেছে। সুন্দরবন শুধু দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ নয়, উপকূলীয় অঞ্চলের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা এবং ঘূর্ণিঝড়সহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কমাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণ ও পরিচালনার ক্ষেত্রে জাহাজ চলাচল, ড্রেজিং, শিল্পবর্জ্য এবং সংশ্লিষ্ট অবকাঠামোর কারণে নদী ও জলজ পরিবেশের ওপর চাপ তৈরি হতে পারে। তবে প্রস্তাবিত প্রকল্পের সুনির্দিষ্ট অবস্থান, নকশা এবং পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়নের বিস্তারিত তথ্য ছাড়া এর প্রকৃত ঝুঁকি নির্ধারণ করা সম্ভব নয়।
প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ ও পরিবেশসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্যে সুন্দরবনের সংবেদনশীলতা বিবেচনায় নিয়ে পরিকল্পনা গ্রহণের গুরুত্ব উঠে এসেছে। তাঁদের উদ্বেগের মূল বিষয় হলো, জ্বালানি উন্নয়নের উদ্যোগ যেন বন, বন্য প্রাণী এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবিকা ও পরিবেশের দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির কারণ না হয়।
সুন্দরবনসংলগ্ন এলাকায় যেকোনো বড় অবকাঠামো নির্মাণের আগে যথাযথ পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন, বিকল্প স্থান যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মতামত গ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে প্রকল্পের সম্ভাব্য লাভের পাশাপাশি পরিবেশগত ও সামাজিক ব্যয়ও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।
জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সুন্দরবনের অনন্য জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশগত গুরুত্ব রক্ষা করাই এখন এ ধরনের পরিকল্পনার ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ।

