রাজশাহীতে জনসভায় যোগ দিয়ে আখচাষিদের জন্য প্রণোদনার অর্থ বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ মঙ্গলবার বিকেলে হাজী মুহম্মদ মুহসীন সরকারি উচ্চবিদ্যালয় মাঠে, যা রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠ নামেও পরিচিত, তিনি ৩৮ হাজার ৯৭০ জন আখচাষির জন্য মোট ১২ কোটি টাকার প্রণোদনা বরাদ্দের ঘোষণা দেন। এরপর ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ বলে ডিজিটাল বোতাম চেপে একযোগে অর্থ বিতরণের কর্মসূচি উদ্বোধন করেন সরকারপ্রধান। তখন জনসভায় উপস্থিত হাজারো মানুষও সমস্বরে ‘বিসমিল্লাহ’ উচ্চারণ করেন।
প্রধানমন্ত্রীর সফরসূচি অনুযায়ী, দুপুর ২টা ৫৫ মিনিটে সামরিক বিমানে তিনি রাজশাহীর শাহ মখদুম বিমানবন্দরে পৌঁছান। সেখান থেকে জনসভাস্থলে যাওয়ার পথে সড়কের দুই ধারে দাঁড়িয়ে হাজারো মানুষ তাঁকে শুভেচ্ছা জানান। বিকেল ৩টা ২৫ মিনিটে তিনি জনসভাস্থলে পৌঁছালে বিএনপির নেতা-কর্মী ও সমর্থকেরা তাঁকে স্বাগত জানান।
জনসভার মঞ্চে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ। এ ছাড়া ছিলেন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন, রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ সুইটসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা।
এই কর্মসূচির সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো অর্থ বিতরণের পদ্ধতি। একটি ডিজিটাল বোতাম চেপে একসঙ্গে হাজার হাজার কৃষকের কাছে প্রণোদনা পাঠানোর ব্যবস্থা স্বচ্ছতা ও গতি বাড়াতে পারে, কারণ এতে মাঝপথে অর্থ আটকে যাওয়া বা বিলম্বের সুযোগ কমে। তবে হিসাব করলে গড়ে প্রতি চাষি পাচ্ছেন প্রায় ৩ হাজার ৮৫ টাকা, যা আখচাষের খরচের তুলনায় কতটা সহায়ক হবে, সেটি কৃষকদের প্রকৃত চাহিদার ওপর নির্ভর করবে। প্রণোদনা কোন খাতের জন্য, কীভাবে এবং কোন কোন জেলার চাষিরা এর আওতায় আছেন, সে বিষয়ে প্রতিবেদনে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
একই দিনে রংপুর, রাজশাহী ও চট্টগ্রাম সফরের অংশ হিসেবে রাজশাহীতে এই জনসভায় অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী। সকালে তিনি রংপুরে পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের কর্মসূচিতে অংশ নেন, আর রাজশাহীর পর চট্টগ্রামে যাওয়ার কথা রয়েছে।

