দেশের রাজনীতিতে যোগ্য ও সৎ মানুষের অংশগ্রহণের সুযোগ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। তাঁর মন্তব্য, সমাজের নিকৃষ্ট ব্যক্তিরা সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী হন, আর সবচেয়ে দুর্নীতিবাজ ব্যক্তিরাই নেতৃত্বে চলে আসেন। রাজনীতিতে ভালো মানুষের অংশগ্রহণের উপযুক্ত পরিবেশ এখনো গড়ে ওঠেনি বলেও মনে করেন তিনি।
বুধবার (২১ অক্টোবর ২০২৬) বিকেলে ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলা পরিষদের হলরুমে উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের আয়োজনে এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন স্পিকার।
তিনি বলেন, সৎ ও ভালো মানুষের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ সীমিত হয়ে পড়েছে। সংসদে রাজনীতি করার জন্যও এখন পর্যন্ত উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করা সম্ভব হয়নি। তবে ভবিষ্যতে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
আওয়ামী লীগের শাসনামলের সমালোচনা করে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, দেশ আওয়ামী লীগের দুঃশাসন থেকে মুক্ত হয়েছে। আগামী দিনে আল্লাহর রহমতে দেশে একটি সুন্দর ও সুস্থ সমাজ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে বিদেশে সাবেক মন্ত্রী ও রাজনৈতিক ব্যক্তিদের বিপুল সম্পদ থাকার অভিযোগও তোলেন স্পিকার। তিনি দাবি করেন, যুক্তরাজ্যে আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের ৪০০টি বাড়ি বাজেয়াপ্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ সরকার এসব বাড়ির অবস্থান উল্লেখ করে চিঠি দেওয়ার পর ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ এ পদক্ষেপ নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানান তিনি।
হাফিজ উদ্দিন আহমদের দাবি অনুযায়ী, সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের দুবাইয়ে ১০০টি, যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৫০টি এবং কানাডায় ৩০ থেকে ৪০টি বাড়ি রয়েছে। বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের অর্থ লুট করে এসব সম্পদ গড়ে তোলা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তবে বক্তব্যে উত্থাপিত এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য উপস্থাপন করা হয়নি।
আওয়ামী লীগ টানা ১৭ বছর ক্ষমতায় থাকার সময় দলটির নেতাকর্মীদের অনেকে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন স্পিকার। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তাঁর ছেলের যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও ইংল্যান্ডে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সম্পদ রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
কানাডার বেগমপাড়ায় অর্থ পাচারের মাধ্যমে সম্পদ গড়ে তোলার অভিযোগ তুলে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, কয়েকটি রাজনৈতিক দল সাধারণ মানুষের সম্পদ লুট করে নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তন করেছে।
স্পিকারের বক্তব্যে দেশের রাজনৈতিক নেতৃত্বের সততা, নির্বাচনে যোগ্য ব্যক্তিদের অংশগ্রহণ এবং বিদেশে সম্পদ গড়ার অভিযোগের বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে। তাঁর মন্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে জবাবদিহি ও দুর্নীতি প্রতিরোধের প্রশ্নকে সামনে এনেছে। তবে বিদেশে সম্পদ থাকার বিষয়ে উত্থাপিত অভিযোগ এবং সম্পদ বাজেয়াপ্তের উদ্যোগের প্রকৃত অবস্থা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তথ্য ও নির্ভরযোগ্য প্রমাণ প্রয়োজন।

