রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক পর্যটন সড়কে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ শুরু হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা থেকে শুরু হওয়া এই কর্মসূচির কারণে সাজেক থেকে ফেরার পথে উজোবাজার এলাকায় আটকা পড়েছেন প্রায় দুই হাজার ৩৫০ পর্যটক। অবরোধকারীরা পর্যটকবাহী কোনো গাড়িই ছাড়তে রাজি নন বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন। প্রশাসন আলোচনার মাধ্যমে পর্যটকদের নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছে।
সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন ও সাজেক গণ-অধিকার রক্ষা কমিটির ডাকে এই অবরোধ পালিত হচ্ছে। সকাল থেকেই উজোবাজারসহ সড়কের বিভিন্ন জায়গায় গাছের গুঁড়ি ফেলে পিকেটিং করছেন অবরোধকারীরা। এতে সড়কে সব ধরনের যান চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে।
সাজেক পর্যটনকেন্দ্রের লাইনম্যান হেপিং ত্রিপুরা জানান, সকাল সাড়ে ৮টার দিকে সাড়ে চার শতাধিক ছোট-বড় গাড়ির বহর নিয়ে পর্যটকেরা সাজেক ছাড়েন। বহরটি সাজেক ভ্যালি থেকে ২৫ কিলোমিটার দূরে উজোবাজার এলাকায় পৌঁছালে অবরোধকারীরা সেটি আটকে দেন। এতে গাড়িগুলোতে থাকা পর্যটকেরা মাঝপথে আটকে পড়েন।
সাজেক গণ-অধিকার রক্ষা কমিটির সভাপতি বাবুধন চাকমা বলেন, তাঁরা শান্তিপূর্ণভাবে অবরোধ পালন করছেন। পর্যটকের গাড়িসহ কোনো ধরনের গাড়ি চলতে দেওয়া হবে না। তাঁরা সড়কে অবস্থান নিয়েছেন এবং পর্যটকবাহী গাড়ি ছেড়ে দেওয়ার কোনো চিন্তা নেই।
সাজেক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হোসেন বলেন, পর্যটকদের গাড়ির বহরটি উজোবাজার এলাকায় এসে আটকে পড়েছে। পুলিশ অবরোধকারীদের সঙ্গে কথা বলছে এবং পর্যটকদের নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছে দিতে কাজ করা হচ্ছে।
গতকাল বুধবার বিকেলে সংগঠন দুটি সাজেক পর্যটন সড়কে অনির্দিষ্টকালের অবরোধের ঘোষণা দেয়। এর জেরে বুধবার সন্ধ্যা থেকেই সাজেক ভ্যালিতে পর্যটকদের ভ্রমণ সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করে জেলা প্রশাসন। তবে নিষেধাজ্ঞা ও অবরোধের ঘোষণার আগে থেকেই যাঁরা সাজেকে অবস্থান করছিলেন, তাঁরা ফেরার পথে আটকা পড়েছেন।
এই ঘটনা সাজেক সড়কে বারবার অবরোধের প্রবণতাকেই সামনে এনেছে। এর আগেও একাধিকবার অবরোধের ডাকে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা দিতে হয়েছে। এতে একদিকে পর্যটকেরা চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন, অন্যদিকে স্থানীয় পর্যটন ব্যবসা ও এর ওপর নির্ভরশীল মানুষের আয়ও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অবরোধ কত দিন চলবে, তা অনিশ্চিত থাকায় আটকে পড়া পর্যটকদের খাবার, পানি ও নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে।
সমস্যার স্থায়ী সমাধান না হলে এমন পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি ঠেকানো কঠিন হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এখন প্রশাসন ও অবরোধকারী সংগঠনের মধ্যকার আলোচনার ফলাফলের দিকেই তাকিয়ে আছেন আটকে পড়া পর্যটকেরা।

