ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট বাবাকে বাঁচাতে গিয়ে দুই সহোদরের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় গুরুতর আহত তাঁদের বাবা মো. আলম বক্তার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন আছেন। বৃহস্পতিবার দুপুর আনুমানিক একটার দিকে কাচিয়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডে আইয়ুব আলীর বসতঘরের পূর্ব পাশের বাগানে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত দুজন হলেন তজুমদ্দিন উপজেলার শম্ভুপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের শিবপুর গ্রামের বাসিন্দা আব্দুর রহিম (৪০) ও মো. রাকিব (৩০)। তাঁরা সম্পর্কে সহোদর ভাই।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, সকালে আলম বক্তার তাঁর শ্যালক মো. আইয়ুব আলীর বাড়িতে দুই ছেলে রহিম ও রাকিবকে নিয়ে গাছ কাটতে যান। দুই ছেলে গাছে উঠে বড় বড় ডাল কাটছিলেন, আর বাবা গাছের নিচে দাঁড়িয়ে কাটা ডালপালা ছোট করছিলেন। এ সময় হঠাৎ পাশের একটি বৈদ্যুতিক তার ছিঁড়ে পড়লে নিচে থাকা আলম বক্তার বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন।
বাবাকে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হতে দেখে গাছে থাকা ছোট ছেলে রাকিব দ্রুত নেমে তাঁকে বাঁচাতে যান। তখন তিনিও বিদ্যুতের আঘাতে আক্রান্ত হন। পরে বড় ভাই রহিমও বিষয়টি দেখে নিচে নেমে এলে তিনিও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন।
স্থানীয়রা ঘটনাটি দেখে তিনজনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে বোরহানউদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক রহিম ও রাকিবকে মৃত ঘোষণা করেন। বাবা আলম বক্তার ওই হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন।
বোরহানউদ্দিন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশ্রাব আলী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেছে। নিহতদের মরদেহ হাসপাতালে রয়েছে এবং এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
এই ঘটনা বিদ্যুৎস্পৃষ্ট ব্যক্তিকে উদ্ধারের ক্ষেত্রে সতর্কতার প্রয়োজনীয়তা সামনে আনছে। বিদ্যুতের উৎস বন্ধ না করে বা অপরিবাহী কিছু ব্যবহার না করে সরাসরি স্পর্শ করলে উদ্ধারকারীও একই বিপদে পড়েন। পাশাপাশি গাছ কাটার মতো কাজের সময় আশপাশের বৈদ্যুতিক লাইন নিরাপদ আছে কি না, তা আগে যাচাই করাও জরুরি।

