গত ১৫ অক্টোবর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের বিদ্যুৎ বিভাগ এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে। ১৭ অক্টোবর বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় এটি প্রকাশিত হয়। বিদ্যুৎ আইন, ২০১৮ এর ৫৯ ধারার ক্ষমতাবলে বিদ্যুৎ বিধিমালা, ২০২০ এর প্রথম তফসিল প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনটি অবিলম্বে কার্যকর হয়েছে।
নতুন তফসিলে ৫০ কিলোওয়াট বা তার বেশি বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী গ্রাহকের বৈদ্যুতিক স্থাপনা পরিদর্শন ও পরীক্ষার ফি উপকেন্দ্রের ক্ষমতা অনুযায়ী নির্ধারণ করা হয়েছে। ছোট ক্ষমতার উপকেন্দ্রের ফি তুলনামূলক কম হলেও ক্ষমতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে খরচও বাড়বে।
যেমন, ১০০ কেভিএ ক্ষমতার উপকেন্দ্র পরিদর্শন ও পরীক্ষার জন্য দিতে হবে ২০ হাজার টাকা। এটির অনুমোদন নবায়নের ফি ১০ হাজার টাকা। ৫০০ কেভিএ উপকেন্দ্রের ক্ষেত্রে পরিদর্শন ফি ৪০ হাজার টাকা এবং নবায়ন ফি ২০ হাজার টাকা।
ক্ষমতা আরও বাড়লে ফিও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। ১০ এমভিএ উপকেন্দ্রের পরিদর্শন ও পরীক্ষায় এক লাখ ৪০ হাজার টাকা এবং নবায়নে ৭০ হাজার টাকা দিতে হবে। আর ১০০ এমভিএ উপকেন্দ্রের ক্ষেত্রে পরিদর্শন ফি সাত লাখ টাকা, নবায়ন ফি সাড়ে তিন লাখ টাকা। সর্বোচ্চ তালিকাভুক্ত ৫০০ এমভিএ উপকেন্দ্রের জন্য পরিদর্শন ও পরীক্ষার ফি ৩০ লাখ টাকা এবং অনুমোদন নবায়নের ফি ১৫ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
নতুন প্রজ্ঞাপনে বৈদ্যুতিক সরঞ্জামের বিভিন্ন ধরনের পরীক্ষার ফিও উল্লেখ করা হয়েছে। বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় সংযোগ বা লিংকেজ পরীক্ষার জন্য দিতে হবে দুই হাজার টাকা। ভবনের অভ্যন্তরীণ বৈদ্যুতিক তারের সংযোগের নকশাসহ নিরাপত্তা পরিকল্পনা অনুমোদনের ফি ৫০ কিলোওয়াটের কম বিদ্যুৎ ব্যবহারের ক্ষেত্রে পাঁচ হাজার টাকা। ৫০ কিলোওয়াট বা তার বেশি ব্যবহারের ক্ষেত্রে এ ফি ১০ হাজার টাকা।
এনার্জি মিটার পরীক্ষার ক্ষেত্রে এক ফেজের মিটারে দুই হাজার টাকা, তিন ফেজের মিটারে পাঁচ হাজার টাকা এবং প্রধান মিটার বা উচ্চ ভোল্টেজের মিটারের জন্য ১০ হাজার টাকা ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। বৈদ্যুতিক লিফটের আর্থিং পরীক্ষায় প্রতি ইলেকট্রোডের জন্য দিতে হবে ৫০০ টাকা।
লিফটের ধরন অনুযায়ী পরিদর্শন ও অনুমোদন নবায়নের ফিও আলাদা। যাত্রীবাহী, ক্যাপসুল ও বেড লিফটের পরিদর্শন ফি ছয় হাজার টাকা এবং নবায়ন ফি তিন হাজার টাকা। অন্যদিকে কার্গো, পণ্য পরিবহন, গাড়ি, অগ্নিনির্বাপণ ও সার্ভিস লিফটের পরিদর্শনে ১০ হাজার টাকা এবং নবায়নে পাঁচ হাজার টাকা দিতে হবে।
বৈদ্যুতিক উপকেন্দ্রের সরঞ্জাম প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের অনুমোদনের ক্ষেত্রেও ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। ১১ হাজার ভোল্ট পর্যন্ত সরঞ্জামের পরিদর্শন ও পরীক্ষার জন্য ৫০ হাজার টাকা এবং নবায়নে ২৫ হাজার টাকা দিতে হবে। ৩৩ হাজার ভোল্ট বা তার বেশি ক্ষমতার সরঞ্জামের ক্ষেত্রে পরিদর্শন ফি ৭৫ হাজার টাকা এবং নবায়ন ফি ৩৭ হাজার ৫০০ টাকা।
ট্রান্সফরমারের তেল পরীক্ষাকারী প্রতিষ্ঠানের পরিদর্শন ও পরীক্ষার ফি ২০ হাজার টাকা। এ অনুমোদন নবায়ন করতে দিতে হবে ১২ হাজার ৫০০ টাকা।
তফসিলে কোনো নির্দিষ্ট শ্রেণির ফি উল্লেখ না থাকলে সংশ্লিষ্ট পরিদর্শন কর্মকর্তা কাছাকাছি শ্রেণির নির্ধারিত ফি বিবেচনা করে আনুপাতিক হারে ফি ঠিক করবেন।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, নির্ধারিত অর্থ সরকারি কোষাগারে ট্রেজারি চালান অথবা অনলাইনে ই চালানের মাধ্যমে জমা দিতে হবে। যে ভবন বা স্থানে বিদ্যুৎ উৎপাদন, গ্রহণ বা ব্যবহার করা হয়, সেই ভবন বা স্থানের দখলদারকে প্রযোজ্য ফি পরিশোধ করতে হবে।
ফি জমা দেওয়ার পর চালানের মূল কপিসহ প্রধান বিদ্যুৎ পরিদর্শকের দপ্তরে অনলাইনে আবেদন করতে হবে। নতুন প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে আগের সংশ্লিষ্ট পরিদর্শন ও পরীক্ষা সংক্রান্ত আদেশ রহিত করা হয়েছে।
নতুন ফি কাঠামোর ফলে বিদ্যুৎ স্থাপনা ও সরঞ্জাম পরিদর্শনের খরচ এখন নির্দিষ্ট শ্রেণি ও ক্ষমতা অনুযায়ী হিসাব করা যাবে। তবে কোনো স্থাপনা বা সরঞ্জামের ক্ষেত্রে কত টাকা দিতে হবে, তা নির্ধারণের আগে প্রজ্ঞাপনের তফসিলে সংশ্লিষ্ট শ্রেণি ও শর্ত মিলিয়ে নেওয়া জরুরি।

