চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে সড়কের পাশের ঝোপ থেকে উদ্ধার হওয়া নবজাতক কন্যাশিশুকে দত্তক নিতে মানুষের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। শিশুটির দায়িত্ব নেওয়ার জন্য মাত্র একদিনে জমা পড়েছে ১২৩টি আবেদন। শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাত পর্যন্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে আবেদনকারীদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, উপযুক্ত পরিবার বেছে নিতে আবেদনকারীদের নানা দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে পরিবারের পরিবেশ, আর্থিক সামর্থ্য এবং শিশুর যত্ন নেওয়ার সক্ষমতা। এছাড়া আরও কিছু প্রাসঙ্গিক বিষয়ও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে। তবে আবেদন করলেই যে শিশুটিকে পাওয়া যাবে, বিষয়টি তেমন নয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যাচাই-বাছাই এবং প্রযোজ্য আইনি প্রক্রিয়া মেনেই সিদ্ধান্ত হবে।
ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহিম গণমাধ্যমকে জানান, শিশুটিকে দত্তক নিতে অনেক আবেদন জমা পড়েছে। উপযুক্ত পরিবার নির্বাচনকে তাঁরা বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন। যাচাই-বাছাই ও আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
ঘটনার সূত্রপাত গত বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর)। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার পাইন্দং ইউনিয়নের উত্তর পাইন্দং এলাকার আমতলীতে সড়কের পাশের ঝোপে শিশুটিকে জীবিত অবস্থায় পাওয়া যায়। স্থানীয় লোকজন ঝোপের মধ্যে শিশুটিকে পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে ফটিকছড়ি থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করে এবং হাসপাতালে নিয়ে যায়। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, তখন শিশুটির শারীরিক অবস্থা ভালো ছিল। তবে কে বা কারা শিশুটিকে সেখানে ফেলে গেছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ বিষয়ে পুলিশের তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কেও প্রতিবেদনে কিছু উল্লেখ নেই।
একদিনে এত বেশি আবেদন জমা পড়া সমাজের একটি ইতিবাচক দিক তুলে ধরে। একটি অসহায় শিশুর প্রতি মানুষের সহমর্মিতা ও দায়িত্ববোধ এতে স্পষ্ট হয়েছে। তবে প্রশাসনের সামনে চ্যালেঞ্জও কম নয়। এত আবেদনের মধ্য থেকে সত্যিই উপযুক্ত পরিবার বেছে নেওয়া সহজ কাজ নয়। শিশুর ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যাচাই-বাছাইয়ের প্রতিটি ধাপ স্বচ্ছ ও সতর্কভাবে সম্পন্ন করা জরুরি।
শিশুকে দত্তক দেওয়ার বিষয়টি আইনি প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত। তাই প্রশাসন তড়িঘড়ি সিদ্ধান্ত না নিয়ে নিয়ম মেনে এগোতে চাইছে। এতে ভবিষ্যতে কোনো আইনি জটিলতা বা শিশুর অনিরাপদ পরিবেশে যাওয়ার ঝুঁকি কমতে পারে।
অন্যদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা শুধু শিশুর ভবিষ্যৎ নিয়েই নয়, ঘটনার রহস্য নিয়েও সচেতন। তাঁরা দাবি করেছেন, শিশুটিকে কেন ও কীভাবে পরিত্যক্ত অবস্থায় ফেলে যাওয়া হলো, তা খুঁজে বের করতে হবে। পাশাপাশি দায়ী ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।
এ ধরনের ঘটনায় শিশুর পরিচয় ও পরিবার সম্পর্কে তথ্য পাওয়া গেলে ভবিষ্যতে তার জন্য সহায়ক হতে পারে। একই সঙ্গে এমন ঘটনা যাতে আর না ঘটে, সে জন্য সামাজিক সচেতনতা এবং অসহায় মা ও শিশুর সহায়তায় কার্যকর ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তাও সামনে আসছে। আপাতত শিশুটি নিরাপদ আছে এবং প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে রয়েছে। উপযুক্ত পরিবারের হাতে তাকে তুলে দেওয়ার প্রক্রিয়া কবে শেষ হবে, তা এখনো জানা যায়নি।

