বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে ১৯৭৩ সাল থেকে বেসরকারি সংসদ সদস্যদের পক্ষ থেকে আইন প্রণয়নের জন্য ২৯৫টি প্রস্তাব জমা পড়েছে। তবে এর মধ্যে মাত্র ৭৩টি বিল সংসদে উত্থাপিত হয়েছে এবং শেষ পর্যন্ত আইন হিসেবে কার্যকর হয়েছে মাত্র ৯টি। গত রোববার সংসদীয় কমিটির এক বৈঠকে উপস্থাপিত পরিসংখ্যানে এ চিত্র উঠে এসেছে।
জাতীয় সংসদ ভবনে বেসরকারি সদস্যদের বিল ও প্রস্তাববিষয়ক সংসদীয় কমিটির দ্বিতীয় বৈঠকে সংসদ সচিবালয় এ তথ্য জানায়। প্রথম থেকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের কার্যক্রমের তথ্য পর্যালোচনা করে ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত হিসাবটি তৈরি করা হয়েছে।
মন্ত্রী নন, এমন সংসদ সদস্যকে বেসরকারি সদস্য বলা হয়। তাঁদের উদ্যোগে সংসদে উত্থাপিত আইন প্রণয়নের প্রস্তাবকে বেসরকারি সদস্যের বিল হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এসব বিলের মাধ্যমে এমন অনেক জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় সামনে আনা সম্ভব, যেগুলো সরকারের নিয়মিত আইন প্রণয়নের অগ্রাধিকারে নাও থাকতে পারে।
চলতি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত এ ধরনের ১১টি প্রস্তাব জমা পড়লেও কোনো বিল সংসদে উত্থাপিত হয়নি। আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো, ২০১৩ সালের পর থেকে বেসরকারি সংসদ সদস্যদের কোনো বিল আইন হিসেবে কার্যকর হয়নি।
অতীতের সংসদগুলোর তথ্যেও আইন প্রণয়নে এ উদ্যোগের সীমিত সাফল্য স্পষ্ট। দ্বিতীয় জাতীয় সংসদে ১৯৮০ সালে যৌতুক নিরোধ আইন এবং ১৯৮১ সালে খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আইনের সংশোধনী গৃহীত হয়। তৃতীয় সংসদে ১৯৮৭ সালে বাংলা ভাষা প্রচলন আইন এবং পঞ্চম সংসদে ১৯৯৩ সালে সংসদ সদস্যদের পারিশ্রমিক ও ভাতা-সংক্রান্ত একটি সংশোধনী আইন পাস হয়।
সপ্তম ও অষ্টম জাতীয় সংসদেও একটি করে বিল আইন হয়েছিল। ২০০১ সালে জাতির পিতার প্রতিকৃতি সংরক্ষণ ও প্রদর্শন-সংক্রান্ত আইন প্রণীত হয়। তবে মাত্র এক বছরের ব্যবধানে, ২০০২ সালে আইনটি বাতিল করা হয়।
নবম জাতীয় সংসদে ২০১১ সালে কুষ্ঠরোগী-সংক্রান্ত পুরোনো আইন বাতিলের আইন পাস হয়। পরে ২০১৩ সালে নির্যাতন এবং হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইন ও পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইন গৃহীত হয়। এ তিনটি আইন পাসের মধ্য দিয়েই বেসরকারি সদস্যদের বিল থেকে আইন হওয়ার সর্বশেষ নজির তৈরি হয়।
রোববারের বৈঠকে সংসদীয় কার্যক্রম আরও কার্যকর করা এবং জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিল উত্থাপনের ক্ষেত্রে সংসদ সদস্যদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়ার উপায় নিয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকে অর্থবিল হিসেবে বিবেচিত কোনো বেসরকারি সদস্যের বিলের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতির সম্মতি পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ ও দ্রুত করার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশ করা হয়। পাশাপাশি, সংসদ সদস্যদের জমা দেওয়া বিলে কোনো ত্রুটি বা ঘাটতি থাকলে তা এক সপ্তাহের মধ্যে লিখিতভাবে জানানো এবং ত্রুটির কারণ স্পষ্ট করার সুপারিশও করা হয়েছে। এতে সদস্যরা দ্রুত সংশোধন করে বিল পুনরায় জমা দিতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
কমিটির সভাপতি শাহজাহান চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, সংসদ সদস্য তাহসিনা রুশদীর ও আখতার হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

