বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ৬০ লাখ সদস্যের মধ্য থেকে চলতি বছরেই ১ লাখ দক্ষ সদস্যকে প্রশিক্ষণ দিয়ে বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য পাঠানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তবে শুধু কর্মী পাঠানোই নয়, সংশ্লিষ্ট দেশে তাঁদের কাজের পরিবেশ, বেতন ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা যাচাই করেই ছাড়পত্র দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ।
সোমবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে গাজীপুরের সফিপুরে বাংলাদেশ আনসার-ভিডিপি অ্যাকাডেমিতে মালদ্বীপ, মরক্কো, সিঙ্গাপুরসহ চার দেশের রাষ্ট্রদূত ও প্রতিনিধিদের আনসার সদস্যদের কারিগরি দক্ষতা পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।
মহাপরিচালক বলেন, গ্রামাঞ্চলে দেখা যায়, বিদেশে কর্মী পাঠানোর নামে দালালেরা মানুষের তথ্য সংগ্রহ করে প্রচার-প্রচারণা চালান। পরে বৈদেশিক কর্মসংস্থানের কথা বলে তাঁদের নিয়ে এসে পাসপোর্ট নিয়ে নেওয়া হয়। আনসার বাহিনীর মাধ্যমে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে এ ধরনের কোনো প্রক্রিয়া থাকবে না।
তিনি বলেন, ‘নো মানি, নো পাসপোর্ট। শুধু আগে আমাদের মেম্বার হতে হবে। আমাদের ৬০ লাখ সদস্যের মধ্যে চলতি বছরেই ১ লাখ দক্ষ সদস্যকে কর্মসংস্থানের জন্য তৈরি করব।’
কী ধরনের কাজের জন্য সদস্যদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে, সে বিষয়ে মহাপরিচালক বলেন, বিদেশি নিয়োগদাতাদের চাহিদা অনুযায়ী কর্মী প্রস্তুত করা হবে। কোনো নিয়োগদাতার কেয়ারগিভার প্রয়োজন হলে তাঁকে সেই কাজের উপযোগী কর্মী দেওয়া হবে। আবার কারও হাউসকিপার প্রয়োজন হলে সে অনুযায়ী কর্মী প্রস্তুত করা হবে।
তবে কর্মী পাঠানোর আগে তাঁদের বেতন ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা যাচাই করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। তাঁর ভাষায়, ‘শুধু পাঠালেই হবে না, আমার যে সদস্য, তাঁর ওখানকার বেতন ও অন্যান্য সুবিধা কেমন, সেটিও দেখতে হবে।’
মহাপরিচালক বলেন, বিদেশে কর্মী পাঠানোর উদ্যোগে দুই পক্ষের মধ্যে এসব বিষয়ে সমঝোতা হচ্ছে। একটি চুক্তির মাধ্যমে কর্মসংস্থানের শর্তগুলো নির্ধারণ করা হচ্ছে।
জাপানের সঙ্গে সম্ভাব্য চুক্তির বিষয়ে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে জাপান সফরে গেছেন। দেশটির তিনটি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়ে আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। সেখানে এ বিষয়ে প্রস্তুতিও রাখা হয়েছে। সম্ভবত সফরকালে চুক্তিগুলো স্বাক্ষরিত হবে।
আনসার বাহিনীর মহাপরিচালক বলেন, বিদেশি কোম্পানিগুলোর কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কিছু যোগ্যতা ও মানদণ্ড রয়েছে। সেগুলো পূরণ না হলে কর্মী পাঠানো সম্ভব হবে না। এসব শর্ত পূরণ না করেও ভুয়া সনদ দিয়ে কাউকে যোগ্য হিসেবে উপস্থাপন করা হবে না।
তিনি বলেন, ‘এটা করলে সে ওখানে গিয়ে আমাদের দেশের আস্থাটা নষ্ট করে ফেলবে। আমরা এখানে সংখ্যার চেয়ে কোয়ালিটিকে বেশি অগ্রাধিকার দিচ্ছি।’
এর আগে সকাল ১১টায় চার দেশের রাষ্ট্রদূত ও প্রতিনিধিদল আনসার-ভিডিপি অ্যাকাডেমিতে প্রবেশ করেন। তাঁরা সেখানে কুটিশিল্প, গার্মেন্টস, ওয়ার্কশপসহ বিভিন্ন প্ল্যান্ট পরিদর্শন করেন।
এ সময় বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন পর্যায়ের আনসার সদস্য এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকেরা উপস্থিত ছিলেন।

