ক্ষতিকর উপাদান থাকার সন্দেহে ভারত থেকে আমদানি করা ১৩৫ টন চালের নমুনা অধিকতর পরীক্ষার জন্য বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়েছে। সরকার থেকে সরকার (জিটুজি) পদ্ধতিতে আনা এই চালের বিতরণ নমুনা সংগ্রহের পর থেকেই স্থগিত রাখা হয়েছে। তবে গবেষণা প্রতিষ্ঠানের একজন বিজ্ঞানী বলছেন, পরীক্ষায় যা পাওয়া গেছে তা নির্ধারিত মানমাত্রা পেরোয়নি, তাই উদ্বেগের কারণ নেই।
জানা গেছে, ভারত থেকে একটি জাহাজে চালের চালানটি আনা হয়। চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছানোর পর গত ২৪ ও ২৫ জুলাই এগুলো খালাস করা হয়। পরে নিম্নমান ও ক্ষতিকর উপাদান থাকতে পারে, এমন সন্দেহে ১৩৫ টন চাল থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়। খাদ্য অধিদপ্তরের উদ্যোগেই এই অধিকতর পরীক্ষা হয়, কারণ চালে আফলাটক্সিনের মতো ক্ষতিকর উপাদান থাকতে পারে বলে সন্দেহ দেখা দিয়েছিল।
খাদ্য বিভাগের চট্টগ্রামের চলাচল ও সংরক্ষণ নিয়ন্ত্রক মো. সাকিব রেজওয়ান জানান, আমদানি করা চালের একটি চালানের অল্প কিছু চালে আফলাটক্সিনের পরিমাণ কিছুটা বেশি পাওয়া যাওয়ায় অধিকতর পরীক্ষার সিদ্ধান্ত হয়। অর্থাৎ প্রাথমিক পর্যায়ে কিছু নমুনায় মাত্রা তুলনামূলক বেশি দেখা গিয়েছিল, আর সেই কারণেই বিষয়টি আরও গভীরভাবে যাচাই করা হয়।
গত ১৭ আগস্ট গাজীপুরের ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের শস্যমান ও পুষ্টি বিভাগের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. শরীফা সুলতানা দীপ্তির নেতৃত্বে দুই সদস্যের একটি দল চট্টগ্রামে আসে। দলটি হালিশহর ও দেওয়ানহাট কেন্দ্রীয় খাদ্য গুদামের (সিএসডি) কয়েকটি স্তূপ থেকে নমুনা সংগ্রহ করে। হালিশহর সিএসডির ব্যবস্থাপক ইকবাল মাহমুদ বলেন, খাদ্য বিভাগের একটি দল এসে ১৩৫ টন চালের নমুনা নিয়ে যায় এবং চালানটি থেকে এসব চাল আলাদা করা হয়। নমুনা সংগ্রহের পর খাদ্য বিভাগ থেকে বিতরণ স্থগিত রাখার নির্দেশ আসে। সেই অনুযায়ী গুদামে এসব চালের বিতরণ বন্ধ রাখা হয়েছে।
পরীক্ষার ফল নিয়ে ড. শরীফা সুলতানা দীপ্তি বলেন, তাঁরা প্রতিবেদন খাদ্য বিভাগের কাছে পাঠিয়ে দিয়েছেন। শুধু আফলাটক্সিন নয়, ধাপে ধাপে প্রতিটি বিষয় তাঁরা পরীক্ষা করেছেন। যা পাওয়া গেছে, তা নির্ধারিত সীমা অতিক্রম করেনি। তাই এ নিয়ে দুশ্চিন্তার কিছু নেই।
আফলাটক্সিন এক ধরনের বিষাক্ত পদার্থ, যা শস্য ও খাদ্যদ্রব্যে ছত্রাকের কারণে তৈরি হতে পারে। আর্দ্র পরিবেশে সংরক্ষণ বা দীর্ঘ পরিবহনে এমন ঝুঁকি বাড়ে। নির্ধারিত মাত্রার বেশি হলে দীর্ঘ মেয়াদে তা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। এ কারণেই আমদানি করা খাদ্যশস্যে এর পরিমাণ যাচাইয়ে বাড়তি সতর্কতা নেওয়া হয়।
তবে এখন পর্যন্ত একটি প্রশ্নের উত্তর স্পষ্ট নয়। ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট ফল নির্ধারিত সীমার মধ্যে বলে জানালেও খাদ্য বিভাগ আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায়নি। অর্থাৎ বিতরণ স্থগিত থাকা চাল আবার বিতরণ শুরু হবে কি না, তা এখনো জানা যায়নি। পরীক্ষার সুনির্দিষ্ট মাত্রা কত ছিল, সেটিও প্রকাশ করা হয়নি। এসব তথ্য প্রকাশ হলে বিষয়টি নিয়ে জনমনে থাকা সংশয় কাটতে পারে। সব মিলিয়ে সরকারি আমদানির খাদ্যশস্যের মান নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সতর্ক অবস্থান দেখা যাচ্ছে। এখন খাদ্য বিভাগের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছে স্থগিত থাকা এই চাল।

