বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, সরকার কোনোভাবেই ক্রসফায়ার চায় না। এ বিষয়ে পুলিশের মহাপরিদর্শক মো. আলী হোসেন ফকিরের সাম্প্রতিক বক্তব্যও সঠিক হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আইনের কঠোর প্রয়োগ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে অসতর্কতাবশত পুলিশের মহাপরিদর্শক এমন মন্তব্য করেছেন। তাঁর ভাষায়, আইজিপি সহজ-সরল মানুষ হলেও বক্তব্যটি দেওয়া ঠিক হয়নি, উচিতও হয়নি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, ক্রসফায়ারের ক্ষেত্রে সরকারের অবস্থান শূন্য সহনশীলতা। বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড কিংবা পুলিশ হেফাজতে মৃত্যুর মতো ঘটনা সরকার কোনোভাবেই মেনে নেবে না। এ ধরনের ঘটনা ঠেকাতে সরকার কঠোর থাকবে বলেও জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার। অপরাধ দমন ও আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তাঁর দাবি, এখন পর্যন্ত ক্রসফায়ার কিংবা হেফাজতে মৃত্যুর কোনো ঘটনা ঘটেনি।
এর আগে সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাজধানীর পুরান ঢাকার চকবাজারে একটি অনুষ্ঠানে পুলিশের মহাপরিদর্শক মো. আলী হোসেন ফকির বলেছিলেন, সরকার অনুমতি দিলে প্রয়োজনে ক্রসফায়ার করা হবে। তাঁর বক্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক ও জনপরিসরে আলোচনা তৈরি হয়।
ওই অনুষ্ঠানে আইজিপি আরও বলেন, পুলিশ বলপ্রয়োগ করলে এক পক্ষ পুলিশকে ফ্যাসিবাদী বলে আখ্যা দেয়, আবার পুলিশ নিষ্ক্রিয় থাকলে তাকে দুর্বল বলা হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশকে দায়িত্ব পালনের উপযুক্ত পরিবেশ দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
এদিকে মঙ্গলবার দুপুরে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবা কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী। তিনি আইজিপির ক্রসফায়ারসংক্রান্ত বক্তব্যকে সরকারের জন্য বিব্রতকর বলে মন্তব্য করেন।
রিজভী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে লড়াই করা বিএনপির সরকার ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় পুলিশপ্রধানের মুখে ক্রসফায়ারের কথা তাঁদের উদ্বিগ্ন করছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের মধ্য দিয়ে সরকার বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের দায়িত্ব পালন এবং আইনসম্মতভাবে বলপ্রয়োগের সীমা নিয়ে নতুন করে আলোচনা সামনে এসেছে।

