শিশু-কিশোরদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ নিশ্চিত করা, খেলাধুলার সুযোগ বাড়ানো এবং তরুণদের মাদক ও কিশোর অপরাধ থেকে দূরে রাখাই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।
গত ১৪ মার্চ প্রকল্প তদারকির জন্য গঠিত উচ্চপর্যায়ের কমিটির এক সভায় জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের প্রতিটি ইউনিয়নে আট বিঘা করে খাসজমি চিহ্নিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি প্রস্তাবিত জায়গাগুলোর প্রয়োজনীয় সংস্কার ও উন্নয়নের পরিকল্পনা জমা দিতে বলা হয়।
নির্দেশনার সাত মাস পর যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক জানিয়েছেন, ৩৫ জেলার ৫৯৯টি ইউনিয়নের জমিসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।
ডিসেম্বরের মধ্যে ১ হাজার ইউনিয়নের তথ্য সংগ্রহের লক্ষ্য
দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ডিসেম্বরের মধ্যে ১ হাজার ইউনিয়নের জমির তথ্য সংগ্রহের লক্ষ্য রয়েছে। এরপর আগামী পাঁচ বছরে পর্যায়ক্রমে দেশের সব ইউনিয়নে খেলার মাঠ নির্মাণের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে।
তিনি জানান, এই উদ্যোগের জন্য আলাদা কোনো বাজেট নেই। সম্পূর্ণ সরকারি খাসজমি ব্যবহার করেই মাঠগুলো গড়ে তোলার পরিকল্পনা করা হয়েছে। মাঠের সংস্কার ও উন্নয়নকাজ স্থানীয় সরকার, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে পরিচালিত হবে।
প্রতিমন্ত্রীর দাবি, উপযুক্ত খাসজমি পাওয়া যাচ্ছে না—এমন ইউনিয়নের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম। কর্মকর্তাদের জমি চিহ্নিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং নির্ধারিত লক্ষ্যের ১০ থেকে ১২ শতাংশ এলাকার তথ্য ইতিমধ্যে পাওয়া গেছে। কোথাও খাসজমি পাওয়া না গেলে পরবর্তী সময়ে বিকল্প ব্যবস্থা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
মাঠের জন্য জমি নির্বাচনে যেসব শর্ত
শহর ও গ্রামাঞ্চলে খেলার মাঠ নির্মাণের উদ্যোগ তদারক করতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে ১২ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা রয়েছেন এবং প্রতিমন্ত্রী এই কমিটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
নির্দেশনা অনুযায়ী, মাঠ নির্মাণের জন্য এমন জমি নির্বাচন করতে হবে, যাতে কৃষিজমির ক্ষতি না হয়। একই সঙ্গে জনসাধারণের কাছে বিক্রির জন্য প্রস্তাবিত জমি এই কাজে ব্যবহার করা যাবে না।
ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় বা নির্ধারিত উন্নয়নকেন্দ্রের কাছাকাছি জমিকে অগ্রাধিকার দিতে বলা হয়েছে। জমিটি একটানা একটি জায়গায় থাকতে হবে এবং জনবসতির কাছাকাছি ও ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় এলাকায় হতে হবে, যাতে স্থানীয় বাসিন্দারা সহজেই সেখানে যেতে পারেন।
এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে সহযোগিতা চেয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছেও চিঠি পাঠিয়েছে মন্ত্রণালয়। তাঁদের নিজ নিজ এলাকায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
দুই মাসে অন্তত ১ হাজার মাঠ নির্মাণের নির্দেশ
নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে আগামী দুই মাসের মধ্যে সারা দেশে অন্তত ১ হাজার খেলার মাঠ প্রতিষ্ঠার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
৮ অক্টোবর সচিবালয়ে ইউনিয়নভিত্তিক খেলার মাঠ নির্মাণ ও তৃণমূল পর্যায়ে খেলাধুলার প্রসার নিয়ে অনুষ্ঠিত সভায় তিনি এ নির্দেশ দেন।
সরকারের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় মাঠগুলোকে শুধু খেলাধুলার জায়গা হিসেবে সীমাবদ্ধ রাখা হচ্ছে না। সেখানে ফুটবল, ক্রিকেট, ভলিবল, কাবাডি এবং স্থানীয় ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলার জন্য উন্মুক্ত জায়গা রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রতিটি মাঠে সীমানাপ্রাচীর বা বেড়া, বৃক্ষরোপণ এবং হাঁটার পথ নির্মাণের ব্যবস্থাও রাখা হবে। পাশাপাশি শিশুদের খেলার জায়গা ও একটি পার্ক গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
মাঠের দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসন, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান এবং স্থানীয় সংসদ সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ কমিটি গঠন করা হবে।
প্রতি উপজেলায় ক্রীড়া কর্মকর্তা নিয়োগের পরিকল্পনা
তৃণমূল পর্যায়ে খেলাধুলার ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করতে প্রতিটি উপজেলায় ক্রীড়া কর্মকর্তা নিয়োগের সিদ্ধান্তও নিয়েছে সরকার।
এ ছাড়া আগামী অর্থবছরে দেশের ১০টি অঞ্চলে আন্তর্জাতিক মানের ক্রীড়া পল্লি নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে আটটি বিভাগ ছাড়াও ফরিদপুর ও কুমিল্লা অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
প্রস্তাবিত ক্রীড়া পল্লিগুলোতে আধুনিক ইনডোর স্টেডিয়াম, সুইমিং পুল এবং তিরন্দাজি, শুটিং, ফুটবল, অ্যাথলেটিকসসহ বিভিন্ন খেলার প্রশিক্ষণ ও প্রতিযোগিতার ব্যবস্থা রাখা হবে।
তবে দেশজুড়ে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে জমির প্রাপ্যতা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। উপযুক্ত খাসজমি চিহ্নিত করা, দখলমুক্ত জমির ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বয় কতটা কার্যকর হয়, তার ওপরই নির্ভর করবে ইউনিয়ন পর্যায়ে মাঠ নির্মাণের অগ্রগতি।

