তৈরি পোশাকশ্রমিকদের নতুন ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণের প্রক্রিয়া এগোচ্ছে। শ্রমিক প্রতিনিধিদের নাম পাওয়ার পর দুই দিনের মধ্যে মজুরি বোর্ড গঠনের গেজেট প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। মালিকপক্ষের প্রতিনিধিদের নাম ইতিমধ্যে পাওয়া গেছে। এখন শ্রমিকপক্ষের মনোনয়নের অপেক্ষায় রয়েছে সরকার।
মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ঢাকার সিআইআরডিএপি আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে জাতীয় ত্রিপক্ষীয় পরামর্শ পরিষদের (টিসিসি) ৯৬তম এবং তৈরি পোশাক খাতের ত্রিপক্ষীয় পরামর্শ পরিষদের ২৫তম সভায় মন্ত্রী এ কথা জানান। বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) প্রতিবেদন অনুযায়ী, শ্রমিক প্রতিনিধিদের নাম পাওয়ার পর সরকারি ছুটি না থাকলে দুই দিনের মধ্যেই গেজেট প্রকাশ করা হবে। তবে এই গেজেট মজুরি বোর্ড গঠনের জন্য, নতুন ন্যূনতম মজুরির চূড়ান্ত ঘোষণা নয়। বোর্ড গঠনের পরই মজুরি পর্যালোচনার কাজ এগোবে।
পোশাক খাতের জন্য বোর্ডে ছয়জন প্রতিনিধি থাকবেন। মূল বোর্ডে থাকবেন একজন চেয়ারম্যান, একজন স্বাধীন সদস্য, একজন মালিক প্রতিনিধি ও একজন শ্রমিক প্রতিনিধি। এর সঙ্গে তৈরি পোশাকশিল্পের জন্য আলাদাভাবে একজন মালিক ও একজন শ্রমিক প্রতিনিধি যুক্ত হবেন। নতুন মজুরি নির্ধারণের ক্ষেত্রে দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, প্রতিবেশী দেশগুলোর মজুরি এবং কারখানাভেদে বাস্তব অবস্থা বিবেচনায় নেওয়া হবে বলে শ্রম মন্ত্রণালয়ের সচিব এর আগে জানিয়েছিলেন।
সভায় চলমান শ্রম অসন্তোষ নিয়েও আলোচনা হয়। শ্রমিকদের বকেয়া বেতন দ্রুত পরিশোধের জন্য মালিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন মন্ত্রী। প্রতি মাসের ৭ তারিখের মধ্যে শ্রমিকদের প্রাপ্য মজুরি পরিশোধ নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন তিনি। একই সঙ্গে শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ করে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি না করার অনুরোধ জানান। তাঁর মতে, কারখানার ভেতরে মালিক ও শ্রমিকদের আলোচনার মাধ্যমেই সংশ্লিষ্ট সমস্যার সমাধান খোঁজা উচিত।
সভায় সম্মিলিত গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি নাজমা আক্তার বলেন, গাজীপুরসহ বিভিন্ন শিল্প এলাকায় সাম্প্রতিক শ্রম অসন্তোষের ঘটনা নিয়ে সরকার, মালিক ও শ্রমিক প্রতিনিধিরা একসঙ্গে কাজ করছেন। বকেয়া মজুরি দ্রুত পরিশোধ এবং শিল্প পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় সমস্যাগুলো সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চলতি মাসের মধ্যেই মজুরি বোর্ড গঠনের প্রক্রিয়া শেষ করার উদ্যোগও রয়েছে বলে তিনি জানান। পাশাপাশি শ্রমিকদের মজুরি বাড়ানো, বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণ, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমানো এবং গ্যাস ও জ্বালানি সংকট নিরসন নিয়েও সরকারের সঙ্গে আলোচনা চলছে।
বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের সহকারী সাধারণ সম্পাদক রাজেকুজ্জামান রতন বলেন, টিসিসির সভায় মজুরি বোর্ড গঠনের নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। অন্যদিকে, তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সহসভাপতি রেজওয়ান সেলিম গাজীপুর ও কালিয়াকৈরে চলমান বিক্ষোভ নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে দ্রুত ও টেকসই সমাধানের আহ্বান জানান। বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেমও বলেন, শ্রমিকদের মজুরি বাড়ানোর বিষয়ে সরকারের অঙ্গীকার রয়েছে। মালিক ও শ্রমিক উভয় পক্ষ একই মনোভাব নিয়ে এগোলে নতুন করে বিক্ষোভের প্রয়োজন হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। কারখানার ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো এবং শিল্প খাতে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ওপরও গুরুত্ব দেন সংশ্লিষ্টরা।
শ্রমিকদের নতুন মজুরি কত হবে, তা এখনো নির্ধারিত হয়নি। আপাতত বোর্ড গঠনের জন্য শ্রমিক প্রতিনিধিদের মনোনয়নই প্রধান বাধা। গেজেট প্রকাশের পর বোর্ডের কাজ শুরু হলে মজুরি নির্ধারণের আলোচনা আনুষ্ঠানিকভাবে এগোবে। ফলে শ্রমিকদের প্রত্যাশিত মজুরি বৃদ্ধি কতটা এবং কত দ্রুত বাস্তবায়িত হবে, তা নির্ভর করবে বোর্ডের পর্যালোচনা ও পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপর।

