রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে সচিবালয় স্থানান্তরের উদ্যোগের প্রতিবাদে আন্দোলনরত শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) শিক্ষার্থীরা বুধবার সকালে দুটি মেলার নির্মাণাধীন স্থাপনা ভাঙচুর করেছেন। পরে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাঁদের নিবৃত্ত করে ক্যাম্পাসে ফিরিয়ে নেয়। কয়েক দিন ধরেই এই দাবিতে আন্দোলন চলছে।
পুলিশ ও মেলাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, মাঠটিতে পাশাপাশি দুটি মেলার আয়োজন চলছিল। একটি মাসব্যাপী ‘এশিয়া আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা’, অন্যটি এক সপ্তাহের ‘যুব মেলা’। দুটি মেলা উপলক্ষে সেখানে ফটক ও বিভিন্ন স্টল নির্মাণের কাজ চলছিল।
মেলার কাজে যুক্ত ব্যক্তিদের অভিযোগ, বুধবার সকালে শেকৃবির ৭০ থেকে ৮০ জন শিক্ষার্থী মাঠে গিয়ে স্থাপনা ভাঙচুর করেন। ‘গবেষণার মাঠ ফেরত চাই, সচিবালয় নয়’ লেখা ব্যানার নিয়ে তাঁরা এ কাজ করেন। পুলিশের একটি দল উপস্থিত থাকলেও তারা শিক্ষার্থীদের নিবৃত্ত করতে পারেনি বলে অভিযোগ। তাঁদের দাবি, ভাঙচুরে আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি মালামালও নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, মেলা উপলক্ষে বানানো টিনের বেড়ার একটি অংশ ভেঙে ফেলা হয়েছে। কয়েকটি কাঠের কাঠামো মাটিতে পড়ে আছে। স্টল নির্মাণের কাজে যুক্ত ব্যক্তিরা সেগুলো খুলে ফেলছেন।
যুব মেলার স্টল নির্মাণের সঙ্গে যুক্ত ইউসুফ সর্দার বলেন, তাঁরা সরকারের অনুমতি নিয়েই কাজ করছেন। মাঠ নিয়ে আপত্তি থাকলে তা সরকারের সঙ্গে বোঝাপড়ার বিষয়। স্টল ভাঙচুর কেন করা হলো এবং এতে তাঁদের দোষ কী, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, ভাঙচুরের পর শিক্ষার্থীরা নির্মাণের যন্ত্রপাতিও নিয়ে গেছেন।
এশিয়া আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার স্টলের কাজে যুক্ত একজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, তাঁদের মেলার মূল ফটক ভাঙচুর করা হয়েছে। তাঁর ভাষ্য, শতাধিক শিক্ষার্থী এসে ভাঙচুর করে চলে যান। এতে কয়েক লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
শেকৃবির ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর অধ্যাপক তাজুল ইসলাম বলেন, সচিবালয় স্থানান্তরের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা কয়েক দিন ধরে আন্দোলন করছেন। তাঁদের দাবির বিষয়ে প্রশাসনিকভাবে উদ্যোগ নেওয়া হবে। ভাঙচুরের মতো ঘটনা যেন আর না ঘটে, সে বিষয়েও পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
শিক্ষার্থীদের দাবি, পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠটি তাঁদের বিশ্ববিদ্যালয়ের। সেখানে সচিবালয় করতে দেওয়া হবে না। মাঠটি গবেষণাকাজে ব্যবহারের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়কে ফিরিয়ে দিতে হবে।
এর আগের দিন মঙ্গলবার মেলার মাঠে সচিবালয় স্থাপনের জন্য মাটির গুণাগুণ পরীক্ষার কাজ চলছিল। দুপুরে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে সেখানে গিয়ে মাটি পরীক্ষার যন্ত্রাংশ ও দুটি গাড়ি ক্যাম্পাসে নিয়ে যান। ওই দিন তাঁরা ক্লাস ও পরীক্ষাও বর্জন করেন। মাঠ ফেরত পাওয়ার দাবিতে তাঁরা একটি স্টিয়ারিং কমিটিও গঠন করেছেন।
সব মিলিয়ে আন্দোলন এখন ভাঙচুর পর্যন্ত গড়িয়েছে, যা দুই মেলার আয়োজকদের আর্থিক ক্ষতির কারণ হয়েছে। মাঠের মালিকানা ও ব্যবহার নিয়ে সরকার ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করছে এই অচলাবস্থা কাটবে কি না।

